প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:১০ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো কারণে আমদানি পণ্যের মজুত ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে তা মোকাবিলায় সচিবদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবদের বৈঠকের পর ২৪ দফা লিখিত নির্দেশনার মধ্যে যে কোনো সংকটের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় না। কোনো কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) বন্ধ হয়ে গেলে একমাস, দুই মাসে সমাধান করার জন্য সচিবদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিব কমিটির বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্প্রতি যে সচিব সভা হয়েছে তারই একটি ফলোআপ বৈঠক হয়েছে। এছাড়া সভায় সচিবদের কাছ থেকে ব্যয় সংকোচনে বিভিন্ন খাতে সাশ্রয় কেমন হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। গত জুন থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎখাতে প্রায় ৪৮ শতাংশ খরচ কমেছে। আপ্যায়ন (এন্টারটেইনমেন্ট) খরচ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে। আর জ্বালানি তেলেও প্রায় ৪০ শতাংশ কম খরচ হয়েছে। সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন সর্বোচ্চ সাশ্রয় কোন মন্ত্রণালয় করেছে। জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বেশি সাশ্রয় করেছে।
খাদ্যশস্য মজুত আছে ১৬ লাখ টনেরও বেশি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী জুন পর্যন্ত যে প্রক্ষেপণ দেখা যাচ্ছে, তাতে দেশে খাদ্যের মজুতে কোনো ঘাটতি হবে না। এখনো ১৬ লাখ টনেরও বেশি খাদ্য মজুত রয়েছে। ফলে আগামী রোজা পর্যন্ত আমাদের কোনো খাদ্য ঘাটতি হবে না। স্বল্প আয়ের মানুষের সহায়তায় ওএমএসসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তার কর্মসূচিগুলো চলবে।
আজ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উপস্থিত ছিলেন না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রিফ করবে। বৈঠকে খাদ্যের মজুত নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে কৃষি সচিব জানিয়েছেন, এই বোরো মৌসুম শেষ হয়ে গেলে আগামী মে মাস পর্যন্ত খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকবে। আর যে খাদ্য আছে, সেটি ছাড়াও এবারে আমনের ফলন ভালো হয়েছে। খরা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সুবিধা হচ্ছে যে নিম্নাঞ্চলেও আমন চাষ করা গেছে।
গম আমদানির চেষ্টা চলছে
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশে প্রায় ৫৮-৫৯ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন করা গেছে। আরও গম আনার চেষ্টা চলছে। সভায় খাদ্যসচিব নিশ্চিত করেছেন, গম আনা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক মন্দা চলছে এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে প্রকল্পের এ, বি ক্যাটাগরি করে দেওয়া হয়েছে। সেসব ক্যাটাগরি কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
বৈদেশিক ঋণকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর অনুরোধ
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বৈদেশিক ঋণকে সঠিকভাবে কাজে লাগতে অনুরোধ করা হয়েছে সচিব বৈঠকে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের জন্য ভালো হবে। যখন আমরা বৈদেশিক ঋণ নিই, তখন একটি বার্ষিক প্রজেকশন (প্রক্ষেপণ) দেখাতে হয়। যেমন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের ৪০০ মিলিয়ন ডলার লাগবে। এখন আমরা যখন ৪০০ মিলিয়নের রিকুইজেশন দিয়ে দিই, তা খরচ করতে না পারলেও আমাদের ব্যবস্থাপনা খরচ কম আসে না। আমরা যদি ২০০ মিলিয়ন ডলারও খরচ করি, তখন ব্যবস্থাপনা খরচ দিতে হয় ৪০০ মিলিয়নেরই। যে কারণে এ দিকটিতে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।