× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গুমের শিকার অনেকের এখনও হদিস পায়নি গুম কমিশন

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ০৮:৩৯ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গত ১৫ বছরে যেসব ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেকের আজও খোঁজ মেলেনি। অন্তর্বর্তী সরকার একটি গুম কমিশন করলেও গুমের শিকার ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়া তো দূরের গুমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদেরও বিচারের আওতায় আনা যায়নি। এক বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত হয়নি এ অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াও। অথচ গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এখনও ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি হস্তান্তর ও মৃত্যু সনদসহ বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেক পরিবারের সদস্যরাই মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন

গতকাল এইচআরএসএস আয়োজিত আলোচনা সভায় ‘অন্তর্বর্তী সরকার গুমের ঘটনার বিচার করবেÑ এমন প্রত্যাশা ছিল’ বলে মন্তব্য করে গুমের শিকার হওয়া ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) রাজনৈতিক সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পেরোনোর পর এই বিচার আর হবে কি না, তা নিয়ে আমাদের সংশয় আছে।’

আলোচনা সভায় এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন, গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত গুম কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনাসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভায় ধারণাপত্র পাঠ করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এবং সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

সভায় ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে সকলেই গুম, খুনের শিকার। আইনের খসড়ায় অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিগত সময়ের সরকারি আমলারা এখনও পরিবর্তন হয়নি। ন্যায়বিচার প্রয়োজন। বিচারের দায়িত্ব ভুল ব্যক্তির কাছে গেলে হবে না।’

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এখনও ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি হস্তান্তর ও মৃত্যু সনদের মতো মৌলিক বিষয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে জাতিসংঘের আবাসিক অফিসের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান বলেন, ‘অনেকের নামে এখনও মিথ্যা মামলা চলছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার।’

প্রস্তাবিত নতুন আইনে গুমের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এইচআরএসএসের উপদেষ্টা মো. নূর খান বলেন, ‘গুম কমিশন কিছু কাজ করছে, যা শিগগির প্রতিফলিত হবে। তবে মনস্তাত্ত্বিক যে ফ্যাসিজম আছে, সেটাও বিলুপ্ত করতে হবে।’

সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে গুম, খুনের‌ সংস্কৃতিকে কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে এই ধরনের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে, তার জন্য যত ধরনের আইনি, রাজনৈতিক এবং নৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তা আমাদের করতে হবে‌।’

বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করেই দেশ পরিচালনা করবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘গুম কমিশন তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, কিন্তু আমরা সেখানে ডিজিএফআই, এনএসআই-এর কোনো বক্তব্য পাইনি। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে নানান সংস্থা। পুরনো‌ স্টাবলিশমেন্ট এখনও যার যার জায়গায় সক্রিয় রয়েছে, তাদেরকে‌ বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।’

গুমের শিকার ব্যক্তিদের এখনও জবাব দেওয়ার মতো কিছু করা যায়নি বলে মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এসএম মঈনুল করিম বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, যাতে এই সংস্কৃতি আর কখনও ফিরে না আসে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাবরুক মোহাম্মদ, গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, ২০১৭ সালে ধানমন্ডি থেকে নিখোঁজ হওয়া ইশরাক আহমেদের বাবা জামালউদ্দীন আহম্মেদ, ২০১৩ সালে মোহাম্মদপুর থেকে গুমের শিকার হাফেজ জাকিরের ভাই জিয়াউর রহমান, রাজশাহী থেকে গুমের শিকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মহিদুলের ভাই শহীদুল ইসলাম, রাজশাহী থেকে গুম হওয়া গোলাম মর্তুজা, ২০২৩ সালে ধামরাই থেকে গুম হওয়া রহমত উল্লাহ, ২০১৪ সালে রংপুর থেকে গুম হওয়া আবদুল বাসেত, ২০১৪ সালে নীলফামারী থেকে গুমের শিকার আতিকুর রহমানের ভাই আশিকুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুম দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিনটি গভীর শোক, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে পালন করা হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আসক বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সংহতি জানাচ্ছে, যারা তাদের অঞ্চলে বা প্রান্তে এই ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আসক মানবাধিকারের পক্ষে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘গুম হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাদের পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।’

গতকাল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ দিনে আমরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি। প্রিয়জন হারানোর বেদনা কত যে কঠিন তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কারও পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।’

জামায়াত সেক্রেটারি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাদের পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরিয়ে দেবেন এবং গুমের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা