প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১২:০২ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদ ও ইকোসিস্টেম নিয়ে ৩২ দিনের জরিপ কার্যক্রম শুরু করছে নরওয়ের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ ‘আর. ভি. ফ্রিৎজফ নানসেন’। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) থেকে জরিপ শুরু হয়ে চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতায় ‘ফিশারিজ রিসোর্সেস অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভে’ নামক এই কার্যক্রমে দেশীয় ১৩ জনসহ বিশ্বের মোট ২৬ জন গবেষক অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের আমন্ত্রণে ১৯৭৯ সালে সর্বপ্রথম, ১৯৮০ সালে দ্বিতীয়, ২০১৮ সালে তৃতীয় এবং এবার চতুর্থ দফায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাহাজটি।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে আমাদের সমুদ্রে কী পরিমাণ মাছ আছে, সমুদ্রের জীবনচক্রসহ সব ধরনের তথ্য পাব। আমাদের দেশের মানুষ স্বাদু পানির মাছই বেশি পছন্দ করে। আমরা সামুদ্রিক যেসব মাছ খাই তার বাইরেও অনেক মাছ আছে। সঠিক তথ্য পেলে সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।
তিনি বলেন, আমাদের সামুদ্রিক জলসীমার আয়তন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। এটি জৈবিক ও অজৈবিক সম্পদে সমৃদ্ধ। সমুদ্র সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে বিশাল সম্ভাবনাময় এ খাত দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গবেষণা সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালে ‘আর. ভি. ফ্রিৎজফ নানসেন’ জাহাজ বঙ্গোপসাগরে গবেষণা পরিচালনাকালে তাদের সঙ্গে ছিলাম। এবারও আছি। তিনি বলেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের তথ্য-উপাত্ত দরকার হয়। জরিপের মাধ্যমে সমুদ্রে কী ধরনের সম্পদ আছে সেই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সরকারকে হস্তান্তর করা হবে। তারা বিশ্লেষণ করে এসব কাজে লাগাবে। তা ছাড়া প্লাস্টিকদূষণে সাগরের কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে সে ব্যাপারে তথ্য আনা হবে, সরকার সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারবে। আবার মাছের মজুদ কেমন সেই তথ্য পেলে মাছ আহরণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতঃপূর্বের তিনটি গবেষণায় মজুদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে কী অবস্থা তা বলা যাচ্ছে না। কেননা এটি নানা কারণে কমবেশি হয়ে থাকে। আগামী ৬ মাস পরে জরিপের ফল প্রকাশ করা হবে।
অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইলিশ ও লইট্টা মাছ ছাড়া বাকি মাছগুলো হাইরিস্কে রয়েছে। কেননা সেসব মাছ পরিমাণের চেয়ে বেশি আহরণ করা হচ্ছে, আবার যা আহরণ করা হচ্ছে তার সঠিক হিসাবও মিলছে না। সরকারি ল্যান্ডিং সেন্টারে সব মাছ আনা হলে তথ্যটি পাওয়া সম্ভব হবে।
চিহ্নিত হবে সামুদ্রিক দূষণ
বর্তমানে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণিকা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এগুলো মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরে জমে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই জরিপে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও সামুদ্রিক আবর্জনার উপস্থিতি ও প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। সামুদ্রিক মাছ ও প্ল্যাঙ্কটনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষাক্ততা ও রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করা হবে। এতে করে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।