প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৫ ১৪:৪১ পিএম
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া সাতটি পৃথক মামলায় তদন্ত সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এসব মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ও সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা, যেমন– আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রভাবশালী ২৩ জন সাবেক কর্মকর্তা, যার মধ্যে আছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।
২০২৫ সালের ২০ জুলাই তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে একযোগে ৩৯ জন আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলাগুলোতে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার এক শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন এবং সেই গুলিতে বহু নিরস্ত্র মানুষ নিহত হন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ ১৫ বছরের সরকার পতনের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের শাসনভার গ্রহণ করে এবং গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিচার এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান।