প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৫ ২১:৫৬ পিএম
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ গঠনের উদ্দেশ্যে গণভবনে প্রায় ১১১ কোটি টাকার নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যেভাবে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বুধবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো টিআইবির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, সরকারি অর্থ ব্যয়ে ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেভাবে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির যুক্তিতে কাজ দেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জাদুঘরের রূপান্তরের কার্যক্রম সমাপ্ত করতে যে ধরনের নির্মাণ বা সংস্কারকাজ করতে হবে, সেই কাজ হবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অর্থাৎ দরপত্র ডাকা হবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দরপত্র ছাড়া এ ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের স্মারক ও আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করার প্রশংসনীয় উদ্যোগটি এখন প্রশ্নের মুখে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত জরুরি অবস্থা, আকস্মিক দুর্যোগ, বিশেষায়িত কোনো পণ্য/সেবা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়ের বিধান রয়েছে, যেখানে দ্রুত পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা প্রয়োজন হয়। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জাদুঘরের রূপান্তরের কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছেÑ এই প্রকল্পের সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই গৃহীত হয়েছিল এবং ক্রয়নীতি অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার জন্য দরপত্র ডাকাসহ যথাযথ নীতি অনুসরণের জন্য সময়ও হাতে ছিল।
ড. জামান আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রক্রিয়াটি কোনো বিশেষায়িত ক্রয় নয়। এ প্রকল্পে বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক (ইএম) এবং পূর্ত খাতের প্রায় ১১১ কোটি টাকার কাজ দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলোÑ নিয়মিত এ ক্রয়ের জন্য কেন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে? এ কাজের জন্য যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলো তা কীসের ভিত্তিতে? কোন যুক্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচিত করা হলো; কার্যাদেশের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিইবা কী? এক্ষেত্রে ব্যয়িত অর্থের ‘ভ্যালু ফর মানি’ কীভাবে নিশ্চিত হবে? এ প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর ছাড়াই এভাবে কাজ দেওয়ায় প্রক্রিয়াটি কি যোগসাজশমূলক এবং পক্ষপাতদুষ্টÑ এমন প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়। এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া কাজ প্রদান করায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ও সদ্ব্যবহারের প্রশ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।