প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২২ ১৭:৫৭ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২ ১৮:১৪ পিএম
মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার চার জন। ছবি : সিআইডি
ভারতে নারী পাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধী তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলো--রানা আহমেদ, সুজন মিয়া, সাহাবুদ্দীন এবং নাইমুর রহমান ওরফে শামীম। আসামিরা নারীদের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে সেখানকার যৌনপল্লীতে বিক্রি করত।
সিআইডির তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, এ চক্রটি শুরুতে সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। পরবর্তীতে গত দুই-তিন বছর ধরে মানব পাচারে জড়িয়ে পড়ে। পাচারকারীরা চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রলোভনে নারীদের পাচার করে আসছে। এ চক্রের হাতে ২০ থেকে ২৫ জন নারী ভারতে পাচার করা হয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা।
মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জরিনা (ছদ্মনাম) ও শিউলি (ছদ্মনাম) নামের দুই বোনকে বেশি বেতনের প্ররোচনায় ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ২০২১ সালের ৪ মে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করা হয়। ভারতে অবস্থানরত সহযোগীদের সহায়তায় দুই বোনকে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। সেখানে দুই বোন যৌন নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে যৌনপল্লী থেকে পালিয়ে ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় এই দুই বোন এ বছরের ২২ মার্চ বাংলাদেশে ফেরত আসেন ও আদালতে জবানবন্দি দেন।
সিআইডি জানায়, পাচার হওয়া দুই জনের একজন মো. ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী ও অপরজন শ্যালিকা। ইউসুফই তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে দালালের কাছে তুলে দেয়। এ ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই দুই নারীর বাবা। এ ঘটনায় ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইউসুফ এখন কারাগারে। ঘটনার পরপরই মামলাটির দায়িত্ব নেয় সিআইডি।
নজরুল ইসলাম বলেন, ইউসুফের স্বীকারোক্তিতে ৬ জনের নাম উঠে আসে। তার মধ্যে দুজন রানা ও সুজন। গ্রেপ্তার অন্য দুজন রানা ও সুজনের সহযোগী। এ চক্রটি চারটি ধাপে গ্রুপভিত্তিক কাজ করে থাকে। একটি গ্রুপ ঢাকা-গাজীপুর থেকে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দিয়ে নারীদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। অন্য গ্রুপটি দায়িত্ব নিয়ে সীমান্ত থেকে ওপারে পাঠায়। সেখান থেকে একটি গ্রুপ তাদের রিসিভ করে। এরপর তাদেরকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সংসার করা ইউসুফের উদ্দেশ্য ছিল না। ভারতে পাচার করার জন্যই তিনি বিয়ে করেন। নতুন যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তদন্তাধীন। এই চক্রের দেশি-বিদেশি সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।