প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ২১:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধন সেবা নিয়ে দুর্ভোগ আর জটিলতা নিরসনে স্বতন্ত্র কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সে লক্ষ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন)-২০২৫’ নামে একটি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরির কাজ চলছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ‘আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, সুরক্ষাসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও ইসির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (৩ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এর খসড়া পর্যালোচনার লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভা করে।
এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সেবা সহজতর ও সমন্বিত করা। বর্তমানে এসব সেবা ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন গত ১৬ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশন এনআইডি সেবা নিজেদের অধীনে রাখতে যে প্রস্তাব দিয়েছে তা উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করেছে। এখন সরকারকে অধ্যাদেশ জারি করে আগের আইন পুনর্বহাল করতে হবে।
এদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এতে আপত্তি জানিয়ে বলছে, ভোটার রেজিস্ট্রেশন ও এনআইডি সেবা অন্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাদের ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘খসড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। সিভিল রেজিস্ট্রেশন কমিশন গঠনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থায় যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, তা কতটা কার্যকর হবে সেটি নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।’
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন না রেখে স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। এতে জনদুর্ভোগ কমবে এবং প্রশাসনিক কাঠামো আরও সুসংহত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ পরিমার্জন করা হবে।
সিভিল রেজিস্ট্রেশন কমিশন গঠিত হলে এটি জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করবে।