গণপরিষদ নির্বাচন প্রশ্নে সিইসি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ২১:৪৫ পিএম
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৫ ০০:৩২ এএম
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘গণপরিষদ নির্বাচন নয় বরং আমরা জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিদ্যমান যে আইন-কানুন আছে সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে যেতে পারবে না।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের
নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচন একসঙ্গে করার দাবি প্রসঙ্গে সিইসি
বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা আমরা
অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলো তো অনেক কথাই বলে।
আমরা তো সেই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে যেতে পারব না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার প্রধান একটি টাইম ফ্রেম
ঘোষণা করেছেন। হয় আগামী ডিসেম্বর, না হয় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে। আমরা ডিসেম্বরকে ধরে
নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছি। সুতরাং ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ঘিরেই আমাদের চিন্তা-ভাবনা।’
ঐকমত্য কমিশনের
সুপারিশে সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কোন ধরনের সুপারিশ আসে তা না
দেখে তো আমরা বলতে পারবো না। ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কোনটা বাস্তবায়নযোগ্য,
কোনটা যোগ্য না তা আমরা বলতে পারবো না। জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিদ্যমান আইন-কানুনের
ভিত্তিতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।
‘এনআইডি সেবা ইসিতে থাকা উচিত’
নির্বাচন ভবনে
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইসির হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র
(এনআইডি) সেবা না থাকলে কমিশনের কাজ বিঘ্নিত হবে। তাই এনআইডি কার্যক্রম ইসির হাতে থাকা
উচিত বলে মনে করি। এ বিষয়ে কমিশনের মতামত লিখিতভাবে সরকারকে জানানো হবে।’
নাসির উদ্দিন
বলেন, ‘এনআইডি কার্যক্রম ইসি থেকে নিয়ে
যাবে এমন তথ্য জানা নেই। সরকারের চিন্তা সব সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়া যায় কি না। কিন্তু
আমাদের প্রতিনিধি সরকারকে জানিয়ে এসেছে আমাদের মতামত। সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা না
করে সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই প্রত্যাশা। লিখিতভাবে ইসির মতামত জানানো হবে। এনআইডি কার্যক্রম
নিয়ে গেলে সমস্যা হবে, তা আমরা জানাব।’
তিনি আরও বলেন,
‘এখন ভোটার নিবন্ধন চলছে, সামনে
জাতীয় নির্বাচন আছে। এর মধ্যে তড়িঘড়ি করে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হয় না।
এমন আলোচনায় ইসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এনআইডি কার্যক্রম
ইসিতে থাকা উচিত।’
এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিতে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন করে।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তা বাতিল চেয়ে চিঠি দেয় ইসি সচিবালয়। পরবর্তীতে আইনটি বাতিল
করা হয়।
কিন্তু এনআইডি
সেবা সিভিল রেজিস্ট্রেশন নামে আলাদা কমিশনে ন্যস্ত করতে ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অধ্যাদেশ,
২০২৫’-এর খসড়া সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে
আলোচনা, পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার
নির্দেশনা দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
নির্দেশনায় বলা
হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন সময়োপযোগী।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন
না রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা সমীচীন।
এ নির্দেশনার
পর গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া’ পর্যালোচনার লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়
কমিটির সভা করে। এ নিয়ে সিইসির কাছে মৌখিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।