সুজন কৈরী
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:২৬ পিএম
প্রবা গ্রাফিক্স
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে (ডিএনসি) পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। অভিজ্ঞ, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল হওয়ার পরও মূল্যায়ন না হওয়ার আক্ষেপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মুখে মুখে। দীর্ঘদিন ধরে এই পদোন্নতি-বঞ্চনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রমেও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিদপ্তরে বর্তমানে বেশ কয়েকজন যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু বারবার প্রেষণে অধিদপ্তরে পরিচালক হিসেবে অন্য সংস্থা থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আর ডেপুটেশনে এই নিয়োগের ফলে মূল্যায়ন ও পদোন্নতিবঞ্চিত হচ্ছেন অধিদপ্তরের যোগ্য কর্মকর্তারা। অথচ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধিমালা-২০২২-এ বলা আছে, এসব পদে পদোন্নতি পাবেন বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
ডিএনসি সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে বর্তমানে প্রেষণে পরিচালক (অপারেশনস্ ও গোয়েন্দা), পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনা অধিশাখা), পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও পরিকল্পনা) ও পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব : চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) এবং অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) পদে প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন পাঁচজন।
সূত্র জানায়, পরিচালক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিচালক পদে কমপক্ষে পাঁচ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অতিরিক্ত পরিচালক পদে উপপরিচালক হিসেবে পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। না হলে সমপদমর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তারা এই পদে প্রেষণে নিয়োগ পাবেন। একইভাবে উপপরিচালক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক বা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে সাত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
ডিএনসি-তে চাকরি জীবনে ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছেÑ এমন কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিশেষভাবে অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক পদে যোগ দেন তারা। এরপর দীর্ঘ ২৫ বছরে তাদের মাত্র একবার পদোন্নতি দিয়ে উপপরিচালক করা হয়েছে। অথচ যোগ্যতা বা সক্ষমতার বিচারে তাদের আরও ওপরের পদে পদোন্নতি হওয়ার কথা।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তারা বলেন, পরিচালকের চারটি পদে প্রেষণে যাদের আনা হচ্ছে তারা নিঃসন্দেহে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা। তবে অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম আত্মস্থ করতেই তাদের বেশ সময় লেগে যায়। অধিদপ্তর থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণেও অংশ নিচ্ছেন প্রেষণে আসা কর্মকর্তারা। কিন্তু এসব প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান অধিদপ্তরে কাজে লাগানোর আগেই তারা আবার অন্যত্র বদলি হয়ে যাচ্ছেন। ফলে তাদের মাদকসংক্রান্ত প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কার্যত কোনো কাজেই আসছে না। অধিদপ্তরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এক্ষেত্রে অধিদপ্তরের নিজস্ব দক্ষ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিলে সামগ্রিকভাবে অধিদপ্তরের কাজে গতি বাড়বে। এ ছাড়া যোগ্যতার বিচারে যেসব বিভাগীয় কর্মকর্তা রয়েছেন তারা চতুর্থ গ্রেডের। আর প্রেষণে আসা কর্মকর্তারা পঞ্চম গ্রেডের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসির এক কর্মকর্তা বলেন, পদোন্নতি পাওয়াটা একজন কর্মকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার। দক্ষ, যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠানেরই ক্ষতি করছে। প্রতিটি কর্মকর্তার এসিআর আছে, জ্যেষ্ঠতার তালিকা আছে। এরপরও প্রেষণে কেন নিয়োগ দিতে হবে।
ডিএনসির এই কর্মকর্তার দাবি, তিনি চাকরি জীবনে ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন। তার মতো আরও কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু অধিদপ্তর এসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি না দিয়ে প্রেষণে পরিচালক পদে অ্যাডমিন ক্যাডারে নিয়োগ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার যেভাবে অর্গানোগ্রাম তৈরি করেছে সেভাবে চলছে। নিয়োগ বিধিমালায় অধিদপ্তরে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা না থাকলে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেওয়া যাবে বলে উল্লেখ করা আছে।’
তাহলে কি অধিদপ্তরে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তার ঘাটতি রয়েছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও ঘাটতি রয়েছে। মোটকথা সরকারের ইচ্ছে অনুযায়ীই কাজ হবে।’