সম্মেলন সমাপ্ত
ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:০৫ এএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৮ এএম
ফাইল ছবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ প্রশাসনিক একরাশ কঠোর বার্তা পেলেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এসব বার্তা নিয়ে তারা ফিরে গেলেন মাঠ পর্যায়ে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার বরাবরের চার দিনের পরিবর্তে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন আয়োজন করা হয়। গত রবিবার হওয়া এই সম্মেলন শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার।
সম্মেলনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ডিসিদের নির্ভয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মব জাস্টিসের নামে অরাজকতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়াসহ নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বার্তা দেওয়া হয়েছে তাদের।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাই এ সম্মেলন বিগত সময়ের বিবেচনায় ছিল বিশেষ গুরুত্ববহ।
মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ডিসিদের জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের একাধিক উপদেষ্টাও বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জেলা প্রশাসকদের জনগণের নিপীড়নে কাজে লাগিয়েছে। নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। তাই আগামী দিনে দলীয় আনুগত্যে জনগণের নিপীড়নের কাজে ব্যবহৃত না হতে ডিসিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উপদেষ্টারা বলেছেন, ডিসিদের রাষ্ট্রের সেবা করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। ভালো মানসিকতা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করতে হবে।
তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মঅধিবেশনে ডিসিরাও মাঠ প্রশাসনে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাদের কর্তৃত্ব বাড়ানো, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ যৌক্তিক কিছু প্রস্তাবনা লিখিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলন ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের দলীয় কাজে ব্যবহার করেছে। ডিসিদের দ্বারা ভোটারবিহীন নির্বাচন করিয়ে তারা ক্ষমতায় বহাল থেকেছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় অন্যায় আদেশ পালন করতে হয়েছে তৎকালীন জেলা প্রশাসকদের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলনে ডিসিদের কারও আজ্ঞাবহ না হয়ে নির্ভয়ে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি-কৌশল বাস্তবায়নে তাদের আন্তরিক হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিক জেলা প্রশাসক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে তারা ঝাঁপিয়ে পড়বেন। এসব বার্তা তাদের মাধ্যমে সরাসরি দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। আর তা সরকারের অনুকূলে অনেক সুফল বয়ে আনবে। সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে উম্মুক্ত আলোচনা হওয়ায় সরকার ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে বোঝাপড়া সহজ হবে।
আবার একাধিক ডিসি আক্ষেপ করে বলেছেন, তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আলোচনায় প্রাধান্য পায়নি। সার্বিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেসব প্রস্তাব নাকচ হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের মৌলিক সমস্যাগুলো হয়তো আগামীতে ক্ষমতায় আসা যেকোনো সরকার সমাধান করবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে। কেননা অতীতেও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সেসব কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। ফলে প্রত্যেক বছরই ঘুরেফিরে একই প্রস্তাব লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ৩৪টি অধিবেশন হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টিই ছিল কার্য অধিবেশন। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের কাছ থেকে এক হাজার ২৪৫টি প্রস্তাব এসেছে। তার মধ্যে ৩৫৪টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রধান প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিলÑ ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জোরদারকরণ. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশ, আইন-কানুন বা বিধিমালা সংশোধন। সর্বোপরি জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে।
একাধিক জেলা প্রশাসক জানান, তিন দিনের এই সম্মেলনের কার্য অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের জন্য সব মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। প্রতিটি অধিবেশনের সময় ছিল একেবারে সংক্ষিপ্ত। উপদেষ্টাদের বক্তব্যের পর তেমন কোনো আলোচনার সুযোগ থাকেনি। সংক্ষিপ্ত সভা শেষে তাড়াহুড়ো লেগে যায়।
তারা বলেন, জেলা প্রশাসক পদ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাদের জেলার অসংখ্য দায়িত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণ প্রকল্প বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম হাতে নিতে হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার থাকায় রাজনৈতিক কোনো চাপ নেই।
এদিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়াদি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইত্যাদির কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ডিসিদের জনগণের নিপীড়নে অপব্যবহার করেছে ফ্যাসিস্টরা
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘ডিসিরা অনেক কিছু জানেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে মেধাবী মানুষরাই প্রশাসনে যোগ দেন। পরবর্তীতে ডিসি হয়ে কাজ করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, গত ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রের এত বড় সম্পদকে জনগণকে অত্যাচার-নির্যাতন ও নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য অপব্যবহার করেছে। আগামী দিনে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা যেন প্রশাসন ক্যাডারের সম্ভাবনাগুলোকে জনগণের নিপীড়নে কাজে না লাগান।’
ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে কার্য অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসিদের ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে রাষ্ট্রের সেবা, আইনশৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি ঘটবে। আগামী দিনে দেশের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব হবে। সেই ধরনের মানসিকতাও তাদের মধ্যে রয়েছে বলে আমি মনে করি।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী দিনে যে দলই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যেন প্রশাসন ক্যাডারের অসীম সম্ভাবনাগুলোকে জনগণের নিপীড়ন কাজে না লাগান। সংবিধানে যেমনটা বলা হয়েছে, জনগণের সেবা করার কাজে যেন তাদের ব্যবহার করা হয়।
দুর্নীতি কমাতে না পারলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হবে না
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। এটিকে সমূলে বিনষ্ট করতে না পারলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হবে না। সব লেভেল থেকে দুর্নীতি কমাতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা সীমান্ত এলাকায় আরও বেশি হারে বিজিবি মোতায়েন, নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে নৌ-পুলিশ বৃদ্ধি করার কথা বলেছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা ও শিল্পপুলিশের জনবল বৃদ্ধির কথাও বলেছেন তারা। বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বে সঙ্গে দেখছি ও বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। কিন্তু এটাকে আরও উন্নত করার অবকাশ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। যাতে আরও উন্নতি ঘটে, সেজন্য সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করা হচ্ছে।’
‘ডিসিরাও আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চান’
সারা দেশে জনপ্রতিনিধি না থাকায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত চাপ থেকে মুক্তি পেতে তারাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় তারা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। জেলা প্রশাসকরা প্রতিনিয়তই বলছেন দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি দিতে। এ বিষয়ে হয়তো দ্রুই একটা সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাই জানেন দেশ একটি বিশেষ পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় জনপ্রতিনিধি নেই। তাদের দায়িত্বগুলো বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা পালন করছেন। যে কারণে তাদের নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ডিসি সম্মেলনে সেগুলো শোনা হয়েছে এবং পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা আসিফ বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনারদের প্রত্যেককেই মূল দায়িত্বের বাইরে কিছু না কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসকদের অতিরিক্ত সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সমস্যাটা হলো, একজন অফিসার যখন নিজ দায়িত্বের বাইরে আরও দুই-তিনটা দায়িত্ব পালন করেন, তার পক্ষে কোনোটাই যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। যে কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বে নিয়ে আসা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সর্বশেষ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায়ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা চলমান। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও সরকার নেয়নি। খুব দ্রুতই কোনো একটা সিদ্ধান্ত আসবে। দ্রুতই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজন, অন্যথায় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।’
যুবকদের সর্বজনীন সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব
যুবসমাজের জন্য সর্বজনীন সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। ওসমানী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংক্রান্ত অধিবেশনে তারা এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সিভিল মিলিটারি কো-অপারেশন কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে ডিসিরা প্রশ্ন করেছিলেন। বিভাগীয় পর্যায়ে সিভিল প্রশাসনের অফিসাররা যে ওরিয়েন্টেশন করেন, এই ওরিয়েন্টেশনগুলো করা সম্ভব কি না? যাতে সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক বাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধি করা যায়।’
বাতিল নিয়োগ ফেরাতে প্রশাসনিক উদ্যোগের সুযোগ নেই
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে বাতিল হওয়া নিয়োগ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটা রায় হয়েছে, যেটাতে ওনারা ক্ষুব্ধ। সরকার আপিল করেছে। এটা বিচারাধীন বিষয়। তাই প্রশাসনিকভাবে বা আলাদাভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। হাইকোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করব।’