প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিজেআরআই) পোশাক নিয়ে ‘নয়-ছয়ের’ অভিযোগে কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউস্থ সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা পোশাক নিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা মহাপরিচালককে অবহিত করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা নিয়মের মধ্যে থেকে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পোশাক দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
জানা গেছে, বিজেআরআইয়ের ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের সরকারি অর্থায়নে প্রতি দুই বছর পর পর পোশাক দেওয়া হয়। পোশাকের ধরন ও মূল্য নিয়েও সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কর্মচারীদের পোশাক কেনার জন্য সরকারি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও টেন্ডারের মাধ্যেমে এখন সাত লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। পোশাক সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাবনার ঈশ্বরদীর এমএস মীম ট্রেইলার্স। বিজেআরআই কর্মচারীদের পোশাক বুঝে নেওয়ার জন্য চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি একটি কমিটি করা হয়। আগের কমিটি বাতিল না করেই ৩০ জানুয়ারি প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার সময় বিজেআরআইয়ের বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম মনিরুজ্জামানের কক্ষে এসে অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে এই কর্মচারীরা মহাপরিচালকের কক্ষেও অভিযোগ জানান। তাদের অভিযোগ- টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে পোশাক বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এলেও এখন পর্যন্ত কোনো মাপ নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া কর্মচারীদের কেউ শার্ট প্যান্ট পড়ে, আবার কেউ পাঞ্জাবি পরে। নারী কর্মচারীরা কেউ বোরকা বা শাড়ি পড়ে। তবে বিজেআরআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইয়ারউদ্দিন সরকার জানিয়েছে, কর্মচারীরা পাঞ্জাবি বা বোরকা পরলে ড্রেস পাবে না।
এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, কর্মচারীরা দাবি-দাওয়া জানিয়েছে। কর্মচারীরা যাতে তাদের প্রাপ্যটা বুঝে পায় সেই ব্যবস্থা করব।
বিজেআরআইয়ের চত্বরে কথা হয় কর্মচারী রাহিমা আখতার ও রীনা পারভিনের সঙ্গে। তারা বলছেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যে পোশাক পাওয়ার কথা, এত বছর আমরা তা পাইনি। সব সময় আমাদের ঠকানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, আমাদের এমন সব পোশাক দেওয়া হয় যা কোনো কাজে আসে না। দেখা গেল জুতা দিয়েছে সাইজে ছোট বা বড়। এমন কাপড়ের শার্ট দিয়েছে যা গায়ে দেওয়া যায় না। আর আমাদের জন্য কত টাকা বরাদ্দ রয়েছে সে কথাও জানানো হয় না। এখন কী ধরনের পোশাক দেওয়া হবে তা জানি না। আমাদের গায়ের মাপ নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা বলেছি হয় আমাদের দেহের মাপ নিতে হবে অথবা আমাদের হাতে টাকা দিয়ে দিতে হবে। সেই টাকায় আমরা পছন্দ মতো পোশাক কিনে নেব।
সরকারি নির্দেশনা অনুসারে, প্রতি দুই বছরের জন্য একজন পুরুষ কর্মচারী গ্রীষ্মকালের জন্য এক সেট ফুল সাফারী, এক সেট হাফ সাফারী, এক বছরের জন্য এক জোড়া কালো অক্সফোর্ড সু, দুই জোড়া মোজা, একটি ছাতা পাবেন। আর শীতকালের জন্য ভি-গলা ফুল সুয়েটার, একটি ফুল শার্ট পাবেন। অন্যদিকে নারী কর্মচারীরা জর্জেট শাড়ি দুইটি, সুতির শাড়ি দুইটি, প্রতি বছরের জন্য স্যান্ডেল দুই জোড়া, মোজা দুই জোড়া, ছাতা একটি পাবেন। আর শীত কালের জন্য শাল বা সোয়েটার একটি, ফুল হাতা ব্লাউজ একটি পাবেন। এছাড়া কর্মচারীদের মধ্যে ড্রাইভারেরা ছাতার পরিবর্তে একটি রেইন কোর্ট, একটি হেলমেট ও ওয়াটারপ্রুভ ব্যাগ পাবেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তারকে কল দিলে তিনি প্রশ্ন শুনে পরিচালক ইয়ারউদ্দিন সরকারকে মোবাইল দিয়ে দেন। ইয়ারউদ্দিন বলেন, কোনো অসুবিধা নেই। যা বরাদ্দ আছে কর্মচারীরা তা নিয়মের মধ্যেই পাবেন। তবে কিছু কর্মকর্তা উৎসাহিত করায় কর্মচারীরা প্রতিবাদ জানাতে আসে।