প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৫১ পিএম
শেরপুরের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর প্রায় ২৫ শতাংশ যুবকের শিক্ষা ও কর্ম নেই। পাশাপাশি তারা দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কোন ধরনের প্রশিক্ষণও নেয়নি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দলু সম্প্রদায়ের যুবকেরা। জেলাটিতে ২০ হাজার ৮৪০ জন ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী মানুষ বাস করে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্মেলন কক্ষে প্রকাশিত ‘শেরপুর জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা জরিপ ২০২৪’ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্পটির পরিচালক ফারহানা সুলতানা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেরপুরের প্রতিটি খানায় ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এর মধ্যে ১৫ থেকে অধিক বয়সী মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার ৫১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৬৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শিক্ষিত। এরমধ্যে পুরুষ ৬৯ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং নারী ৫৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শিক্ষিত। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার হার হাজং জনগোষ্ঠীর। এ জনগোষ্ঠীর পুরুষদের মধ্যে ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারী ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষিত।
জরিপের তথ্যে বলা হয়, শেরপুর সদর উপজেলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত পুরুষ ৭৬ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং নারী ১৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। অন্যদিকে শেরপুরের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের হার ১৫ থেকে বেশি বছর বয়সের মানুষের মধ্যে ৫১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এরমধ্যে ঝিনাইগাটি উপজেলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত পুরুষ ৭৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং নারী ৪৯ দশমিক ২১ শতাংশ। নকলা উপজেলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত পুরুষ ৭৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং নারী ২০ দশমিক ৯২ শতাংশ। নালিতাবাড়ি উপজেলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত পুরুষ ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং নারী ২৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শেরপুর সদর উপজেলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত পুরুষ ৭৬ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং নারী ১৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। শ্রীবরদী উপজেলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত পুরুষ ৭৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং নারী ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারের হার ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। ঝিনাইগাটি উপজেলায় বেকার পুরুষ ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং নারী ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। নকলা উপজেলায় বেকার পুরুষ ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং নারী ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। নালিতাবাড়ি উপজেলায় বেকার পুরুষ ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং নারী ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। শেরপুর সদর উপজেলায় বেকার পুরুষ ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং নারী ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। শ্রীবরদী উপজেলায় বেকার পুরুষ ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং নারী ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেরপুর জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিবন্ধীর হার এক দশমিক ৮৪ শতাংশ। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি নালিতাবাড়িতে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম শেরপুর সদরে এক দশমিক ১৫ শতাংশ।