× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অন্তর্বর্তী সরকার

পদোন্নতি-পদায়ন ও বদলি বিতর্কে গতিহীন প্রশাসন

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৪ ১০:২৪ এএম

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৩৭ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

আজ পূর্ণ হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই মাস। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৮ আগস্ট এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের কাছে রাষ্ট্র সংস্কার ও গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের বেশ কয়েকটি তাদের কার্যক্রমও শুরু করেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কার ও নির্বাচন-সংক্রান্ত রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে এই সরকার পর্যায়ক্রমে তিনবার সংলাপ বা মতবিনিময়ও করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গত দুই মাসেও কোনো আশার আলো দেখাতে না পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ক্ষেত্র প্রশাসনেও অন্তর্বর্তী সরকার গত ৬০ দিনে কোনো গতি আনতে পারেনি। বরং আমলাতন্ত্রে আরও বড় ক্ষত তৈরি হতে চলেছে। কেননা দীর্ঘদিনের বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিলেও তাদের পদায়ন সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে জনপ্রশাসনে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওএসডি) তালিকা আরও দীর্ঘ হতে চলেছে। নিজেদের বঞ্চিত মনে করা কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন পদায়নের জন্য। তাদের নিয়ে এই সরকার কী ভাবছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি বিদায়ি সরকারের আমলে বঞ্চিত হওয়ার দাবিদার কর্মকর্তাদের কোনো তালিকাও এখনও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। 

অনেকেরই অভিমত, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা সরকারের আমলাতন্ত্রই কার্যত প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রকে পরিচালনা করছে। অনেক বিতর্কিত সচিব এখনও স্বপদে বহাল। এরই মধ্যে পদত্যাগকারী সরকারের রেখে যাওয়া তালিকা ধরে জেলা প্রশাসক নিয়োগ কার্যক্রমে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে প্রশাসনে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ডিসি না হওয়ার কারণে ক্ষোভ থেকে হট্টগোল করে ১৭ জন কর্মকর্তা শাস্তির মুখোমুখি। এই ডিসি কেলেঙ্কারিতে নাম উঠে এসেছে খোদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের।

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া আমলাদের ওপর নির্ভরতা কমতে এ সরকারের আরও সময় লাগতে পারে।’ তারা বলছেন, ‘পুরোনো কিছু সচিবকে ওএসডি করা হয়েছে এই অল্প সময়ের মধ্যে। এভাবে দীর্ঘ হতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে ওএসডির অনুপাতিক হার। দুই মাসেও আন্দোলনের হামলা পরিকল্পনাকারী সরকারি কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা কিংবা বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর ফলে প্রশাসনে গতি ফিরছে না।’ এই কর্মকর্তাদের দাবি, এখনও ধর্ম, বিদ্যুৎ, খাদ্য থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন পাওয়া সচিবসহ অনেকেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অথচ এ নিয়ে সরকারকে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হচ্ছে। 

প্রশাসন সংস্কারে কমিটি গঠন

এদিকে প্রশাসন সংস্কারে সাবেক সচিব ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন শিগগির কাজ শুরু করবে। বর্তমানে এ কমিশন চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করছে।

সরকারের দুই মাস পূর্তি সম্পর্কে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা বলছেন, যে পরিস্থিতিতে এ সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, সেই অবস্থা থেকে প্রশাসনকে একটা স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুই মাস খুবই অল্প সময়। তবে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সেটাও সম্ভব ছিল। কিন্তু পরিকল্পনা না থাকায় প্রশাসনে গতি ফিরছে না।

তারা বলছেন, গত ১৫ বছরে সৃষ্ট প্রশাসনিক জট দূর করা কঠিন হলেও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পদোন্নতির কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে সরকারকে। এরই মধ্যে বিসিএস-২৪ উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতির সময় চলে এসেছে। অনেকেই রয়েছেন, যারা যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে প্রশাসনে গতি আনা সহজ হবে না। এ ছাড়াও ‘বৈষম্যের শিকার’ বেসামরিক কর্মচারীদের কাছ থেকে পদোন্নতির জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। 

তবে সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন গবেষক একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। তাদের কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে ওইসব মন্ত্রণালয় নিয়ে সরকারকে চিন্তাভাবনা কম করতে হচ্ছে। তবে অনেক মন্ত্রণালয়েই আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া সচিব থাকায় সেসব মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি ফিরছে না। 

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চুক্তি বাতিলে, ওএসডিকরণে

তবে গত দুই মাসে প্রশাসনে গতি ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে চুক্তিভিত্তিক আমলাদের নিয়োগ চুক্তি বাতিল করার মধ্য দিয়ে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হওয়া আমলাদের মধ্যে রয়েছেনÑ এনবিআর চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) আবু হেনা রহমাতুল মুনিম, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আবদুস সালাম, সড়ক, পরিবহন বিভাগের সচিব এবিএম আমিনুল্লাহ নুরী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এবং নির্বাহী সদস্য (সচিব) মো. খাইরুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিৎ কর্মকার, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম ওয়াহিদা আক্তার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলী হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। ৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের ৩৫ কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে ওএসডি কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মশিউর রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ ও ভূমি সচিব মো. খলিলুর রহমান। ওএসডি করা হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদকে। এছাড়াও গুরুতর অপরাধের জন্য জননিরাপত্তা সচিব মো. জাহাংগীর আলমকে প্রথমে ওএসডি, পরে গ্রেপ্তার করা হয়। 

একই সঙ্গে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে প্রশাসনের চারজন অতিরিক্ত সচিবকে। গত ১৩ আগস্ট বঞ্চিত কর্মকর্তাদের তোপের মুখে দপ্তর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন অভ্যন্তরীণ ও নবনিয়োগ অধিশাখা) সায়লা ফারজানা। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানাকে ওএসডি করা হয়েছে। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব চালিয়ে আসা গৌতম চন্দ্র পালকে ওএসডি করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও প্রশাসনে গতি ফিরছে না।

এ প্রসঙ্গে প্রশাসন বিশেষজ্ঞ আবু আলম মো. শহিদ খান বলেন, ‘শুধু ওএসডি ও শাস্তি দিয়ে প্রশাসনে গতি আনা সম্ভব হবে না। নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসনে কাজ করতে হবে। বিকল্প কর্মকর্তা বাছাই করে ওএসডি করতে হবে। বিগত সরকারের আমলের সচিবরা অনুগত না-ও থাকতে পারেনÑ এমন ভাবনা থেকে ওএসডি করা স্বাভাবিক। তাই বলে দুর্নীতির চার্জশিটধারী কর্মকর্তাদের সচিব পদে নিয়োগ দিলে নানা প্রশ্ন আসবে। এভাবে চললে প্রশাসনে গতি আসতে আরও সময় লাগবে। যদিও সেই দিনটি দেখার আশাতেই প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা