সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২২ ২০:০৩ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২ ২০:২৭ পিএম
কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ঝুমন দাস আপন। ছবি : প্রবা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগার থেকে মুক্ত হলেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঝুমন দাস আপন। গত ১৩ নভেম্বর বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ৬ মাসের জামিন দেন। ভবিষ্যতে তিনি ফেসবুকে উসকানিমূলক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কোনো পোস্ট দেবেন না—এই মুচলেকায় তাকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর বুধবার (২৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় সুনামগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন ঝুমন। এ সময় ঝুমন দাসের স্ত্রী সুইটি রাণীসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
কারামুক্ত হয়ে ঝুমন দাস বলেন, আদালত আমাকে জামিন দিয়েছেন সে জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। যে কয়টা শর্তে আমি জামিন পেয়েছি সেগুলো মেনে চলব। আমি সেগুলো দেখেই হলফনামায় স্বাক্ষর করেছি। আমি কোনো খারাপ বা বিতর্কিত মন্তব্য করব না।
ঝুমন দাসের স্ত্রী সুইটি রাণী বলেন, আজ উনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব উনাকে বুঝিয়ে রাখতে। আমি চাই আদালত যেন উনাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেন।
ফেসবুকে ‘উসকানিমূলক’ পোস্ট শেয়ার দেওয়ার অভিযোগে গত ৩০ আগস্ট সকালে ঝুমন দাসকে হেফাজতে নেয় শাল্লা থানা পুলিশ। প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নবরত্ন মন্দিরের গেটে ঝোলানো মসজিদের দানবাক্সের একটি ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হেঁটে দেশ পরিভ্রমণে নামা এক ব্যক্তি ছবিটি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেই ছবিটি শেয়ারের কারণে এ দফায় গ্রেপ্তার হন ঝুমন।
এর আগে ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা কারাবন্দি মামুনুল হকের সমালোচনার অভিযোগে গত বছরের ১৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন শাল্লা উপজেলার দুর্গম নোয়াগাঁও গ্রামের যুবক ঝুমন দাস। সাড়ে ৬ মাসের বেশি জেল খেটে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।