ডিসি নিয়োগে শত কোটির ‘বাণিজ্য’
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:৪৭ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:২৩ পিএম
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভিযুক্ত সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
ডিসি নিয়োগে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের যে অভিযোগ উঠেছে তা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভিযুক্ত সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি এটার বিষয়ে কিছুই জানি না।’ একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ ফেইক বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমার মোবাইল হলো স্যামসাং। তারা যেটা শো করেছে সেটি হলো আইফোন। আইফোন কি আমি ব্যবহার করি? আমি ব্যবহার করি স্যামসাং। উনারা কে কী দেখাল ওনাদের জিজ্ঞেস করবেন।’
গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানসহ দুই যুগ্ম সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও আলী আযমের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংবাদকে আজ ‘ফেইক’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ এবং সরকার যে টেলিফোন দিয়েছে সেটাও আমি ব্যবহার করি না। আমার আগের যে নম্বর সেটাও সরকারিভাবে আমি ব্যবহার করতেছি।’
এক প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি নিউজ করতে চান, স্টান্টবাজি নিউজ করতে চান...এতদিন আমার সঙ্গে কাজ করেছেন বিন্দুমাত্র যেখানে সত্যতা নাই, আপনারা যারা ভালো আছেন আমি ভালোকে ভালো বলবই। এ প্রশ্ন করার আগে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করেন আপনারা আমাকে এই প্রশ্ন করা কতটুকু যৌক্তিক হচ্ছে।’
অভিযোগ মিথ্যা হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন কি না- জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘অলরেডি তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনটি চিঠি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নেবেন। একটা হলো আমরা তথ্য সচিবকে চিঠি লিখেছি এবং সেখানে একটা পত্রিকার নাম আছে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রেস কাউন্সিল আছে, অন্যান্য যা নিয়ম আছে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। দুই নম্বর হলো- যাকে কেন্দ্র করে...এই ভুয়া লোক তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র সচিবকে লেখা হয়েছে। মে বি এক দুই দিনের মধ্যে আপনারা নিউজ করতে পারেন হি উইল বি অ্যারেস্টেড। তিন নম্বর ব্যবস্থা হলো- যে ব্যাংকারের অনভিজ্ঞতা অথবা ভুলের কারণে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা খোলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে শুধু ওনার ব্যবস্থাই হবে না, অন্যান্য ব্যাংকেও যাতে এরকম সমস্যা না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এটা করেছে তাদের আমরা কতটুকু গুরুত্ব দেই। একটা রাস্তার লোক অনেক কথা বলতে পারে, আমি তার পেছনে দৌড়াব? আমরা জনগণের স্বার্থে কাজ করি। যেভাবে আছি সেভাবেই কাজ করব।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যিনি অভিযোগটা করেছেন, এই অভিযোগকারী আমার কাছে কোনো বিবেচনায় নাই। ইটস এ ফেইক নিউজ।’