× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিআরটিসি : তাজুল ইসলাম

জোনায়েদ মানসুর

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:২৯ পিএম

মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আধুনিক ও স্বচ্ছল বিআরটিসি বিনির্মাণে কাজ করা হচ্ছে। প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত বিআরটিসিকে ঠেলে সাজানোর কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি।’ সম্প্রতি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘লোকসানে ডুবে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন সংস্থাটির কর্মীরা। অনিয়মও তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পরিবর্তনের সুফল সড়কে পাওয়া যাচ্ছে। আমি এতটুকু বলতে পারি বিআরটিসি এখন স্বাবলম্বী। বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশের (চেসিস) ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরি করছে বিআরটিসি। এরই মধ্যে দুটি বাস তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপে আরও কয়েকটি বাস তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।’

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছত্র আন্দোলনের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২টি ইউনিটে ভাঙচুরের কারণে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪২টি বাস ও ১১টি ট্রাকে ভাঙচুর করে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ৪টি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা। জুলাই মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও আগস্ট মাসের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে কোন ধরনের অসন্তোষ নাই।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিআরটিসি গাড়িবহরে নতুন বাস ও ট্রাক যুক্ত করা। বাংলাদেশের সকল জেলায় বিআরটিসির বাস পরিচালনা করা। চেসিস কিনে বিআরটিসির নিজস্ব কারখানায় গাড়ি তৈরি করা। ডিপো ও ট্রেনিং সেন্টার ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন সিস্টেম চালু করা। বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কসপ কার্যক্রম আরও আধুনিকায়ন করা ইত্যাদি।’

চ্যালেঞ্জ জানতে চাইলে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধের চলমান প্রয়াস অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। বিআরটিসির বহরে থাকা গাড়িগুলো সচল রাখা। বেতন-ভাতা নিয়মিত ভাবে প্রদান কার্যক্রম চলমান রাখা। বিআরটিসির ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।’

বিআরটিএ কার্যক্রম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিআরটিসি গত তিন বছর ধরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ২৪টি বাস ডিপো, ২টি ট্রাক ডিপো, ২৮টি মেরামত কারখানা ও ২৭টি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে অর্গানোগ্রামে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৬ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে বাস্তব অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৯৩ জন। প্রতিষ্ঠানে মোট জনবলের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৭২ জন। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে বিলুপ্ত পদের সংখ্যা ৬২৪ জন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারির সংখ্যা ৬২২জন। তবে বর্তমানে এখনও শূন্য পদের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৭৪৩ জন।’

এছাড়া নতুন কি কি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন জানতে চাইলে বিআরটিসি সূত্র জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৪০টি অত্যাধুনিক এসি বাস গাড়িবহরে সংযোজনের লক্ষ্যে ‘প্রকিউরমেন্ট অব সিএনজি সিঙ্গেল ডেকার এসি বাসেস ফর বিআরটিসি’ শীর্ষক ১,১৩,৩৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান আছে। প্রকল্পটির কনসালটেন্ট নিয়োগের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিআরটিসি সারাদেশে চলমান রুট ও গাড়ির সংখ্যা জানতে চাইলে বিআরটিসির মুখপাত্র ও পরিচালক (কারিগরি) কর্নেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার পিএসসি বলেন, ‘চলমান বাস রয়েছে ১ হাজার ১৯৮টি। মোট ট্রাক রয়েছে ৫০৫টি।  স্থানীয় রুট ২০৩টি এবং আন্তর্জাতিক রুট ৫টি। বর্তমানে বিআরটিসি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হয়েছে। পূর্বে নতুন গাড়িবহর থাকা সত্ত্বেও মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব না হলেও বর্তমানে পুরাতন গাড়িবহর দ্বারা মাসে প্রায় ১২ কোটি টাকা বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করে অন্যান উন্নয়নমূলক কাজ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধাদি নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা ব্যতীত বকেয়া বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮০ কোটি টাকা নিজস্ব আয় থেকে পরিশোধ করা হয়েছে। জনবল কাঠামোর ঘাটতি নিরসনে তিন বছরে ১,৪১৭ জন মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিআরটিসি জনবলকে দক্ষ করার লক্ষ্যে চালক, কারিগরসহ প্রায় ১,২৪০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।’

‘মেরামত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিগত তিন বছরে সচল গাড়ির সংখ্যা ৮৮৫টি থেকে ১,১৯৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। বিগত তিন বছরে মেরামত করা গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মেরামত খাতে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। ওয়ার্কশপে অত্যাধুনিক টুলস ও মেশিন সংযোজনের মাধ্যমে মেরামত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বিআরটিসির সকল গাড়ি নিজস্ব ওয়ার্কসপে মেরামত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অত্যাধুনিক গ্লাস মেশিন ও টায়ার রিট্রেডিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ ইয়ার্ড নির্মাণ, ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড, অত্যাধুনিক ট্রেনিং কার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণীকক্ষ, ড্রাইভিং ট্র্যাক, সিমুলেটর সংযোজনের মাধ্যেমে স্মার্ট ও আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।’

এছাড়া ‘বিগত তিন বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ৬৬,৫০৯ জন দক্ষ চালক তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদানের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে ডিপোর উন্নত কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যেক মাসের প্রথম কর্মদিবসে বেতন পরিশোধের পাশাপাশি সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি বকেয়া পরিশোধ নিয়মিত করণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বিগত তিন বছরে সিপিএফ বাবদ ২৮ কোটি ৮১ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা গ্র্যাচুইটি বাবদ, ৩৭ কোটি ২৭ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ও ছুটি নগদায়ন বাবদ ২ কোটি ৭৩ লাখ ১১ হাজার টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে। বাজেট ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং অনলাইনে বেতন-ভাতা, সিপিএফ ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড ট্রান্সফার, ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট, স্টোর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিআরটিসির সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দুর্নীতি পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে হ্রাস করে প্রায় শূন্যের কোঠায় আনা হচ্ছে। প্রথমবারের মত শ্রান্তি-বিনোদন ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করায় বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

সেবাখাতে সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, ‘২০২২ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিআরটিসির সকল বাসে হাফ ভাড়া প্রদানের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের মোট ৩২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৪৫টি বিআরটিসি বাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সচিবালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৩৫ বাসের মাধ্যমে নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিআরটিসি ট্রাক বহরের মাধ্যমে সরকারি সার, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য স্বল্প ব্যয়ে সমগ্র দেশে পৌঁছানো হয়। বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশি ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিমানবন্দর শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারী বাস সার্ভিস সেবা প্রদান করে আসছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পর্যটক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার্থে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ই-টিকেটিং সিস্টেম ও ‘আমাদের বিআরটিসি’ অ্যপ চালু করা হয়েছে। যাত্রী সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিআরটিসি নিত্যনতুন সার্ভিস সংযোজন করেছে। সীতাকুন্ড ইপিজেড বাস সার্ভিস, মেট্রোরেল কানেক্টিভিটি সার্ভিসসহ সেবার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে যাত্রীসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা