নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২২ ১১:৫৫ এএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২ ১২:২২ পিএম
রাজধানীর সড়কে বাসের অপেক্ষায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীতে দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার, মহাখালী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন অনেক যাত্রী। কিন্তু গাড়ির দেখা মিলছে একেবারে কম। এসব গাড়িতে উঠতে যাত্রীদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তবে হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠতে না পেরে বয়স্ক ও নারী-শিশুদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘক্ষণ।
অফিসগামী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও তারা বাস পাচ্ছেন না। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল বা রিকশায় চড়তে গেলে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।
বনশ্রী থেকে শ্যামলীতে গিয়ে অফিস করেন বাদল সরকার। প্রতিদিন সাড়ে ৮টায় রাস্তায় নেমে ৫ মিনিটের মধ্যে বাসে উঠতে পারেন। সকাল সকাল সিটও খালি থাকে, কিন্তু আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় ৪৫ মিনিট দাঁড়িয়েও বাসে উঠতে পারেননি তিনি।
বাদল সরকার বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে। এ কারণে নাকি বাস বন্ধ করে দিছে মালিকরা। সব ভাড়া বাড়ানোর ধান্ধা। ৪৫ মিনিট ধরে কোনো বাসে উঠতে পারছি না। একটা-দুইটা বাস আছে, কিন্তু সব যাত্রীবোঝাই।’
ফাহাদ নামের এক যাত্রী বলেন, ‘সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। বাসা থেকে বের হয়ে কোনো রিকশা পাইনি। তাই হেঁটেই বাসস্ট্যান্ড আসতে হয়েছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটি বাস দেখতে পাই। কিন্তু সেটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিল। পরে বাধ্য হয়ে কিছুটা পথ হেঁটে ও কিছুটা রিকশা করে এসেছি।’
রাস্তায় চলাচল করা বাসগুলোর চালক ও সহকারীরা বলছেন, ‘শুক্রবার রাতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছেন না পরিবহন মালিকরা। তারা পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।’
বনশ্রী থেকে মোহাম্মদপুরগামী বাস তরঙ্গ ও স্বাধীন পরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়। তাদের চালক ও সহকারীরা জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ার কারণে বাস ভাড়া বাড়ানো লাগবে। না হলে চলবে না। বাস বন্ধ রাখার বিষয়ে তারা মালিকদের কাছ থেকে নির্দেশনা পাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনশ্রী থেকে মোহাম্মদপুরগামী একটি পরিবহনের চালক বলেন, ‘অনেক কোম্পানির মালিক বাস নামাইতে না করছে বলে শুনছি। ভাড়া বাড়লে বাস নামাইবে। এটা সরকারকে ভাড়া বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়ার কৌশল।’
জ্বালানির এ দাম বাড়ানোয় শুধু গণপরিবহন খাতে নয়, পণ্য পরিবহনেও ভাড়া বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। সমন্বয়হীনতার কারণে এসব ক্ষেত্রেও নজিরবিহীন সংকট দেখা দিতে পারে, যোগ করেন তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে অন্য যাত্রীরা বলেন, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো আলাপ না করে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মনে হচ্ছে। সেজন্য ভাড়া বাড়ানোয় মালিকরা এভাবে পরিবহন সংকট তৈরি করেছেন। এতে জনসাধারণই ভুগছেন। অথচ আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে দাম বাড়ালে হয়তো আজকের এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
প্রবা/ইউরি/এমজে