ডিসি নিয়োগের সাক্ষাৎকার শুরু
ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ১৪:১২ পিএম
ফাইল ফটো
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ডিসি নিয়োগের জন্য প্রণীত ‘ডিসি ফিটলিস্ট’ আর বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। নতুনভাবে ফিটলিস্ট প্রস্তুত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এবার বিবেচনায় আনা হচ্ছে বিসিএস ২৪, ২৫ ও ২৭ ব্যাচের বঞ্চিত উপসচিবদের। অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে তাদের মধ্য থেকে ৬১৭ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকার। সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে তারা বঞ্চিত ছিলেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজসংকেতের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিবেচনায় নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এর জন্য ডিসি পদায়ন নীতিমালাও শিথিল করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার থেকে ডিসি ফিটলিস্টে থাকা কর্মকর্তাদের (উপসচিব) তিন দিনব্যাপী মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই বিসিএস ২৪ ব্যাচের ৬০ জন কর্মকর্তার (উপসচিব) সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে বাছাই কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এমএ আকমল হোসেন আজাদ। সভায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খলিলুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেন। ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এর পরপরই প্রশাসনে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। বিগত সরকারের আস্থাভাজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হয়। এরই অংশ হিসেবে মাঠপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিতে ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু করা হয়। বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সকল জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় উপদেষ্টা পরিষদ। এরই অংশ হিসেবে গত ২০ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬৪ জেলার মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুরসহ ২৫ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তরে পদায়ন করা হয়। অবশিষ্ট জেলার ডিসিদের শিগগিরই প্রত্যাহার করা হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, গতকাল প্রথম দিনে প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ ব্যাচের ৬০ জন উপসচিবের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তালিকা তৈরিতে মূলত কর্মকর্তাদের মাঠপ্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা, শারীরিক যোগ্যতা, দক্ষতা ও যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বাছাইকৃত কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা প্রতিবেদন ও দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রতিবেদনও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক পদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মকর্তাকে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ, পৌরসভার সচিব বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উভয় পদে মোট দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিগত সরকারের আমলে এমন বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের জেলা প্রশাসক হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়নি। শুধু সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের অনুসারির তকমা লাগিয়ে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ তাদের মাঠপ্রশাসনে কাজ করার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি ব্যাচের মেধাক্রমে প্রথম দিকে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন। এবার তাদের বিশেষ সুযোগ দিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে নীতিমালা শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অতিরিক্ত সচিব পদে ১২৭ কর্মকর্তার পদোন্নতি আজ
এদিকে রাজনৈতিক কারণে গত ১৬ বছরে প্রশাসনে পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন কয়েকশ কর্মকর্তা। গোয়েন্দা তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নামের সঙ্গে নেগেটিভ মন্তব্য জুড়ে দিয়ে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রশাসনের নবম ব্যাচ থেকে ১৩তম ব্যাচের দুই শতাধিক বঞ্চিত কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। গতকাল শনিবার বিকালে এ-সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এ বিষয়ে পদোন্নতিবঞ্চিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি বিসিএস ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছরের বঞ্চনা দূর করতে হবে। যারা যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য, তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিতে হবে। আমাদের আর ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হবে না।’
ডিসি নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দিলেন যারা
সূত্র জানায়, গতকাল ডিসি নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা কর্মকর্তারা হলেনÑ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব শাব্বির আহমেদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নজরুল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবুল আমিন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. ফরিদুর রহমান, আলাউদ্দিন আলী, সুরক্ষা বিভাগের উপসচিব তাহনিয়া রহমান চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহা. আহসান হাবিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব মুফিদুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক রফিকুল আলম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব শরিফুজ্জামান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পিকেএম এনামুল করিম, পরিকল্পনা বিভাগের উপপ্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের আঞ্চলিক পরিচালক কাজী মাহবুবুর রশিদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম, আইএমইডির উপসচিব মো. আনোয়ার ইমাম, অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. রুহুল আমিন, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, পরিকল্পনা বিভাগের উপপ্রধান মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক আইনুর আক্তার পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আহমেদ জামিল, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব বানানী বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. সাবেত আলী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব মো. অহিদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহবুবা আইরীন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলমগীর হোসেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক একেএম মনিরুজ্জামান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার, অর্থ বিভাগের উপসচিব খন্দকার সাদিয়া আরাফিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব মো. শাহীনুর আলম, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. হাবিবুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল হাসান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ হোসেন বিপিএএ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারাবান তাহুরা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশরাফুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহ. আমিনুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সংযুক্ত খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর ভলান্টারি স্টেরিলাইজেশনের প্রশাসক মো. আবদুল ওয়াদুদ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মহসীন উদ্দীন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব এসএম শফিক, ওয়ারপোর পরিচালক বদরুল হাসান লিটন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির পরিচালক জিয়া আহমেদ সুমন, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন, পরিকল্পনা বিভাগের উপপ্রধান মো. রবিউল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জেসমিন পারভীন, অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান।