প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ১৭:০৯ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৪৫ পিএম
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ‘দ্রোহযাত্রা’ সমাবেশ হয়। প্রবা ফটো
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ‘দ্রোহযাত্রা’ সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার পর সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গান-কবিতা-পথনাটক পরিবেশন করেন, দেন নানা স্লোগানও। এ সময় সেখানে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
এ সময় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যারা সহিংসতা চালাতে চায় তাদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। সরকার ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠী চক্রান্তের চেষ্টা করছে। তার থেকে সাবধান থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, “দেশের তিন বছরের বাচ্চা থেকে শ্রমজীবী-পেশাজীবী সবার ওপর আক্রমণ আসছে। জমিন থেকে আক্রমণ আসছে, আকাশ থেকে আক্রমণ আসছে। গুলিতে ‘তিন শতাধিক’ মানুষ নিহত হয়েছে। যারা নিহত হয়েছে তাদের মা-বাবারা হাহাকার করছেন। হাজার হাজার আহত হয়েছে, তাদের মা-মা-বাবারা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।”
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৫২-এর পর থেকে অনেক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, কিন্তু মাত্র কয়েক দিনে এ রকম হত্যাযজ্ঞ কেউ করেনি, এত রক্তপাত কেউ করেনি। সরকার ভেবেছিল এ রকম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালালে আন্দোলন দমে যাবে। কিন্তু প্রতিবাদ আরও বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশে শিক্ষক-অভিভাবক নাগরিক সমাজ পাশে দাঁড়িয়েছে।’
বেলা সাড়ে ৩টায় তারা তাদের সমাবেশ শেষ করে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শহীদ মিনারের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে যান। সমাবেশ চলাকালে প্রেস ক্লাবের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরা ও আফতাবনগরে সকালে এবং জুমার নামাজ শেষে সায়েন্স ল্যাব ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও জনতা।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টিতে ভিজে রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, মহাখালীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গণমিছিল করেন। মিছিলে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর গলায় পরিচয়পত্র ছিল।
এ সময় শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সংঘাতে হতাহতের ঘটনায় বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া তারা গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ নানা ধরনের স্লোগান দেন। মিছিলের সামনে ও পেছনে পুলিশ ছিল।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে বলা হয়, আজ সারা দেশের মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া-কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব প্রার্থনালয়ে প্রার্থনা ও জুমার নামাজ শেষে ছাত্র-জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সব স্তরের নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।