× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নদীর পানি পরীক্ষা বন্ধ করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১১:৫১ এএম

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১৫:৪৩ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীই হচ্ছে প্রাণ। অথচ দখল আর দূষণে নদীগুলোর সর্বনাশ হয়ে গেছে। দেশে ৫৬টি নদীর দূষণের মাত্রা পরীক্ষা করে সেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘অতিমাত্রায় দূষিত’ হিসেবে। নদীর পানির দূষণ পরীক্ষার লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কোটি কোটি টাকা খরচ করে ল্যাব যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল বিদেশে থেকে আমদানি করেছিল। আমদানি করা সেই ল্যাব দীর্ঘদিন থেকেই বিকল। কেমিক্যালও নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, দূষিত পানি পরীক্ষার ল্যাব বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। 

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে এ ল্যাবের দায়িত্বে থাকা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সহকারী কেমিস্ট ফাওজিয়া রহমানকে লাগামহীন দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে অন্য শাখায় বদলি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম বলেন, ‘এ অধিদপ্তরের নানা সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো জনবল কম, কাজ বেশি। এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নদীর পানি পরীক্ষার ল্যাবরেটরি, যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল নষ্ট। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেজন্য একটি কমিটি করে যন্ত্রপাতিগুলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে ‘অতিমাত্রায় দূষিত’ ৫৬টি নদীর দূষণ সারা দেশের ৭৫৪টি নদীতে ছড়িয়ে পড়বে। রিভার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫৬টি নদীর গুণগতমান বিশ্লেষণ করে গত ১৪ মার্চ এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, দূষণ ছড়িয়ে পড়লে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে নদী-তীরবর্তী মানুষের জীবন, জীবিকা, সেইসঙ্গে কৃষি, জলজ স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির  জোগানও হুমকির মুখে পড়বে। আইএমও-এর লন্ডন কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত প্রকল্পটির অধীনে আনা যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। ফলে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো কতটুকু দূষিত হয়ে যাচ্ছে, নৌপরিবহন অধিদপ্তর তা মনিটর করতে পারেনি। 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এই প্রকল্পের অধীন নিয়োজিত জনবল ল্যাবরেটরির বদলে অন্য কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। ফলে সরকারের নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালন হয়নি। সহকারী কেমিস্ট ফাওজিয়াসহ ল্যাবরেটরিতে নিয়োজিত জনবল বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ে নিয়োজিত থাকায় তাদের নিয়োগের শর্তাবলি লঙ্ঘিত হয়েছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই স্থায়ী সম্পদ অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেওয়ায় আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে ল্যাবরেটরি না থাকায় প্রকল্পের অধীনে নিয়োজিত জনবলকে উদ্বৃত্ত ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রয়োজন। যদিও সেটি করতে পারেনি নৌপরিবহন অধিদপ্তর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। অথচ আজ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকার পরও তার সরকারের অনুমোদন না নিয়ে এ প্রকল্পের ল্যাবরেটরি নষ্ট দেখিয়ে বিক্রি করা হয়েছে।

এদিকে দূষণ ও দখলের কারণে ঢাকার চারপাশের নদী ও জলাশয়ের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে নগরীর প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ বাসিন্দার ঘরে ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা প্রায় ৭০ শতাংশ পানিই উত্তোলন করতে হচ্ছে মাটির নিচ থেকে। শুধু ঢাকা ওয়াসাই প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ঘনমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছে। ইতোমধ্যে গাজীপুরের লবণদহ, নরসিংদীর হাঁড়িধোয়া ও হবিগঞ্জের সুতাংÑ এই তিনটি নদীর অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই নদীগুলোয় সহনীয় মাত্রার চেয়ে তুলনামূলক বেশি দূষণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

প্রসঙ্গত, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকার অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোর পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ ও পরিবীক্ষণের জন্য ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেন। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় এ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৫ সালে এ প্রকল্পের অধীন ল্যাবরেটরির কেমিক্যালস, ইকুপমেন্ট, এক্সেসরিজ এবং কেমিক্যালসের জন্য ব্যবহার্য আসবাবপত্র নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত ল্যাবরেটরি ভবনে স্থানান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ল্যাবরেটরি ভবন ভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় সব ধরনের কানেকটিভিটি অকেজো হয়ে যায়। সরকারের বিশাল অঙ্কের টাকার ল্যাবরেটরিসামগ্রী অফিসিয়াল কাজে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। 

এমন প্রেক্ষাপটে এগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় কি না যাচাই করতে এবং ব্যবহারের অনুপযোগী সামগ্রী পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ধ্বংস করতে গত বছরের ২৩ আগস্ট অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ক্যাপ্টেন কাজী মুহাম্মদ আহসানকে এ কমিটির সভাপতি এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সরকারি কেমিস্ট ফাওজিয়া রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়। সদস্য করা হয় অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মোহাম্মদ এহতেছানুল হক ফকির এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর ইসলামকে। কমিটি চারটি সুপারিশ করে। সুপারিশে বলা হয়, ২০০০ সালে কেনা যে কেমিক্যালগুলোর মেয়াদ নেই সেগুলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকাকে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকার অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোর পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ ও পরিবীক্ষণের জন্য ল্যাবরেটরি ভবন স্থাপনের এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং জনবলের সুপারিশ এতে করা হয়নি। এ ছাড়া সরকারের কোনো অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। 

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিবেশ শাখার কর্মকর্তা ফাওজিয়া রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া যাবে না। এটা অফিসের নির্দেশ। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি অফিসের প্রশাসন শাখায় কথা বলেন।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা