এনআইডি জালিয়াতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ২১:৫৩ পিএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪ ০০:৩৭ এএম
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের দুই ভাইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির যে অভিযোগ, তা তদন্তে গঠিত কমিটির কাজ শেষ হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।
বুধবার (২৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব শফিউল আজিম।
আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ (জোসেফ) এনআইডিতে নিজেদের নামের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নামও পরিবর্তন করেছেন। হারিছ আহমেদ তার নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন মোহাম্মদ হাসান। আর জোসেফ নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন তানভীর আহমেদ তানজীল। তাদের ভুয়া পরিচয় তৈরিতে তিনজন সেনা কর্মকর্তার সুপারিশ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।
হারিছ মোহাম্মদ হাসান পরিচয়ে ভোটার হওয়ার জন্য ২০১৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন ফরম পূরণ করেছিলেন। আবেদনের দুদিনের মাথায় মোহাম্মদ হাসান নামে হারিছ আহমেদের জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট তিনি এনআইডিতে নিজের ছবি পরিবর্তন করেন। ভুয়া এনআইডিতে ভাইয়ের ছবি পরিবর্তনে সুপারিশ করেন তখনকার সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ।২০২১ সালে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ পায়।
নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গত ১০ জুন গণমাধ্যমকে এই কমিটি গঠনের কথা জানান। ইসি সচিব শফিউল আজিম গতকাল বলেন, একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কীভাবে তারা (হারিছ-জোসেফ) ভোটার হয়েছিলেন, কোন-কোন তথ্য এখানে এসেছে– আদ্যোপান্ত খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। শুরু কীভাবে হলো, কোথায় উলটপালট হলো– বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
ইসি সচিব বলেন, আমরা বিস্তারিত ও নিখুঁতভাবে তদন্ত করতে চাই, যেন কোনো ধরনের ফাঁক-ফোকর না থাকে। তদন্ত কমিটির ওপর আমাদের আস্থা আছে। তারা কাজ করছেন। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। কমিটি আরও দুই সপ্তাহের সময় চেয়েছে। কমিটি শুরু থেকে এই পর্যন্ত অনেকগুলো ডকুমেন্ট জমা দিয়েছিল। সবগুলো ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা, পরীক্ষা করা, আবার ভেরিফাই করা– এসব সময় সাপেক্ষ। আমরা চাচ্ছি তদন্তটা বৈজ্ঞানিকভাবে হোক, যেন কোথাও কোনো খুঁত না থাকে।
এ জালিয়াতিতে ইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ আছে কি না– জবাবে সচিব শফিউল বলেন, কেউ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা সবাইকেই সন্দেহ করছি। এটা তদন্তেই প্রমাণ হবে। এতটুকু কথা দিতে পারি– কারও যদি এখানে বিন্দুমাত্র ইনভলমেন্ট থাকে, আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব।
এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃতি খুনি রিসালদার মোসলেম উদ্দিনে সন্তানদের এনআইডিতে বাবার নাম পরিবর্তন করা প্রসঙ্গে সচিবের কাছে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন নামে তিনি (রিসালদার মোসলেম উদ্দিন) আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন নাম ধারণ করেছেন বলে আমাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। কোথায়-কোথায় তিনি ছিলেন, কী-কী কাজে সেই নামগুলো ব্যবহার করেছেন, তার আত্মীয়স্বজনরা কোথায়-কোথায় ব্যবহার করেছেন; সব তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত কমিটি এ নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছে। আমরা এটা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আমরা নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট উত্থাপন করব।