× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চীনকে টপকানো সরকারের বড় সাফল্য’

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ০৯:৪৯ এএম

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ১১:০৮ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আবদুর রহমান বলেছেন, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চীনকে টপকে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এটি সরকারের জন্য বড় সাফল্য।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে নিজস্ব সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ২০২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, ক্রাস্টাশিয়ান্স উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম এবং সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনে ১৪তম স্থানে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন, আমার জমি আছে, পাট আছে, মাছ আছে এসব ডেভেলপ করতে পারলে এদিন আর থাকবে না। তার সে কথা ৫০ বছর পর বাস্তবায়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি খাতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজে মাছ চাষ করছেন। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি মাছ চাষে গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম। ইলিশ জাতীয় জীবনের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। এসব প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বের ফসল। আগামী দিনেও যেন এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারি সে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে, এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি নাÑজানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মাছের উৎপাদন বাড়াতে অভয়াশ্রম করা হচ্ছে। আমরা নদীনালায় পোনা অবমুক্ত করে থাকি।

তিনি বলেন, কারেন্ট জাল গোটা বাংলাদেশ ছেয়ে ফেলেছে। আমরা দেশে এটি নিষিদ্ধ করেছিলাম কিন্তু উৎপাদকরা কোর্টে গেলে আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আমরা সে ব্যাপারে আপিল করব।

মন্ত্রী বলেন, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, ক্রাস্টাশিয়ান্স (খোলসযুক্ত মাছজাতীয় প্রাণী যেমন চিংড়ি, লবস্টার ইত্যাদি) উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম এবং সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনে ১৪তম স্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত দুই বছরে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে ইলিশ, দেশি প্রজাতির মাছ (পাঙ্গাশ, বোয়াল, আইড় ও অন্যান্য ছোট মাছ) এবং কার্পজাতীয় মাছ। এর মধ্যে সর্বাধিক অবদান রয়েছে ইলিশ মাছের। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার জাটকা সংরক্ষণ, ইলিশ প্রজনন সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ইলিশ অভয়াশ্রম ঘোষণা ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টন।

মন্ত্রী বলেন, বদ্ধ জলাশয়ে চাষের মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। চাষের মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশ টানা পাঁচ বছর ধরে বিশ্বে পহ্চম স্থান ধরে রেখেছে। মাছ চাষ নিবিড়করণে মাছের খামার যান্ত্রিকীকরণ; প্রজাতি বহুমুখীকরণ; জলবায়ুসহনশীল মাছ চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ; চাহিদার নিরিখে সময়োপযোগী মাছ চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ; হ্যাচারিতে গুণগত মানসম্পন্ন পোনা/রেণু উৎপাদন; চাষি ও উদ্যোক্তাদের নিয়মিত ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ মাছ চাষের উপকরণ বিতরণ; রোগ নিয়ন্ত্রণে ডিজিস সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদারকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এ অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালে আমাদের মাছ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬৫ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০৪১ সালে ৮৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও টেকসই মাছ উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে সেক্টরাল অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নপূর্বক তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ সাধন ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গভীর সমুদ্রে টুনা আহরণের জন্য ‘গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে পাইলট প্রকল্প’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ছাড়া সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ শীর্ষক একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে; যা সুনীল অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা সংযোজনের পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়টির সচিব সাইদ মাহমুদ বেলাল হায়দর, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম, ব্লু ইকোনমি অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. জুলফিকার আলী প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা