বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ
ফারুক আহমাদ আরিফ
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ০৯:১৩ এএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৪ ১৯:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১৮৮টি দেশের মধ্যে ৩৮তম। তারপরও চাহিদার পুরো দুধ দেশে উৎপাদন হয় না। আবার এশিয়ার ৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দৈনিক দুধ গ্রহণের হারে নিচের দিকে অবস্থান বাংলাদেশের। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুধ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনে দেশে প্রধান বাধা দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। তার সঙ্গে রয়েছে গুঁড়ো দুধ আমদানি অব্যাহত থাকা।
এ অবস্থায় আজ ১ জুন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৈশ্বিক পুষ্টিতে দুগ্ধ অপরিহার্য’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ২০০১ সালে প্রথম বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন শুরু করে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন মানুষের প্রতিদিন ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা দরকার। সেখানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য বলছে, দেশে দিনে মাথাপিছু দুধ গ্রহণের হার ২০৮ মিলিলিটার। দুই বছর আগে ছিল ১৭৫ মিলিলিটার।
ডিএলএসের তথ্যমতে, প্রতিজনে ২৫০ মিলিলিটার হিসাব ধরে দেশে বছরে দুধের চাহিদা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার লিটার দুধ। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চাহিদার ৮৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ পূরণ হয়েছে। বাকি অংশ গুঁড়ো দুধ হিসেবে আমদানি করা হয়। এসব আমদানি করা দুধের মধ্যে বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ বলে দাবি খাত-সংশ্লিষ্টদের।
দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান
টেক্সটবুক নামের একটি বৈশ্বিক ওয়েবসাইট গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই হিসেবে বিশ্বে দুধ উৎপাদনে প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত, দ্বিতীয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তৃতীয় পাকিস্তান, চতুর্থ চীন ও পঞ্চম স্থানে ব্রাজিল। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৮তম। ২০২২ সালের জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। শীর্ষে রয়েছে ভারত, যার দুধের উৎপাদনের পরিমাণ ২১ কোটি ৩৭ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশে উৎপাদন হয় ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন।
যা বলছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা
মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়ো দুধ আমদানি করে দেশকে মেধাশূন্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সহসভাপতি আলী আজম শিবলী। তিনি শুক্রবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দেশে দুধের উৎপাদন বাড়াতে হলে ভালোজাতের গরু দরকার। বর্তমানে আমরা ঠান্ডা আবহাওয়ার দেশের জাত হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান গরু পালন করি দুধের জন্য। এটি আমাদের আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় না।
কী করছেন নীতিনির্ধারকরা
দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কী ধরনের পরিকল্পনা আছে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ভৌগোলিক আয়তনে বাংলাদেশ ছোট্ট রাষ্ট্র হলেও জনসংখ্যার বিবেচনায় ছোট নয়। অর্থাৎ ভোক্তা ১৬০ মিলিয়নের বেশি। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অধিক উৎপাদনশীল দুধের গাভি; খাদ্য ও বাসস্থান ব্যবস্থাপনা; রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা; উৎপাদিত দুধের বাজার সংযোগ; ভোক্তাসচেতনতা এবং খামারি/উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্পর্কে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা গরুর জাত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে খামারিদের সংগঠিত করছি। তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক উপকরণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে গবাদিপশুর বাসস্থান নির্মাণ, পশুখাদ্য হিসেবে দানাদার খাদ্যনির্ভরতা কমিয়ে উচ্চফলনশীল ঘাস চাষ সম্প্রসারণে গবেষণাকাজ করা হচ্ছে। ঘাস চাষে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সাইলেজ টিএমআর ইত্যাদি উপায়ে পশুখাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। এ উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান। এ খাতে অবদান রাখায় অনুষ্ঠানে ৫০ জন ডেইরি আইকনকে পরস্কৃত করা হবে।