× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

ঢাকায় মশার উপদ্রব এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং বছরের পুরো সময়জুড়েই থাকে মশককুলের প্রবল দাপট। ছবি: ফাইল ছবি

ঢাকায় মশার উপদ্রব এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং বছরের পুরো সময়জুড়েই থাকে মশককুলের প্রবল দাপট। ছবি: ফাইল ছবি

ঢাকায় মশার উপদ্রব এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং বছরের পুরো সময়জুড়েই থাকে মশককুলের প্রবল দাপট। ফলে এটি জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। সম্প্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা বা শূককীটের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জরিপ বলছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৩টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকা উত্তর সিটির ওয়ার্ডগুলোর গড় ব্রুটো ইনডেক্স ৪০-এর ওপরে। তার মানে দুই সিটির বেশিরভাগ এলাকা ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে এডিস মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তারা নাগরিকদের নানাভাবে সচেতনও করছে। শুধু তাই নয়, বাসাবাড়ি বা বেসরকারি কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা মিললেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করা হচ্ছে জরিমানা। উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, খোদ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব একটি নির্মাণাধীন মার্কেটই এখন মশা উৎপাদনের বিশাল কারখানায় পরিণত হয়েছে। তাও আবার মশা নিধনের মূল কেন্দ্র ‘ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর’-এর ঠিক নাকের ডগায়। যে কারণে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে উল্লিখিত আইন ও অভিযান কি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে? সাধারণ মানুষের আঙিনায় লার্ভা মিললে যদি জরিমানা হয়, তাহলে সিটি করপোরেশনের এই চরম গাফিলতির জন্য তাদের জরিমানা করবে কে?

বহুল প্রচলিত বাংলা প্রবাদ ‘বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা’ আমাদের সবারই জানা। সেসঙ্গে এর মর্মার্থও সবাই অবগত। অপেক্ষাকৃত ছোট প্রাণী ঘোগ (হায়েনা জাতীয় শিকারি প্রাণী) যেখানে বাঘের ভয়ে লুকিয়ে থাকার কথা, সে যখন খোদ বাঘের গুহায় আবাস গাড়ে, তখন বিষয়টি বিস্ময়করই হয়ে ওঠে। রাজধানীর মশা নিয়ে গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রবাদের বাস্তব চিত্রই ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরান ঢাকার লালবাগে ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকার পাশেই নির্মাণাধীন ‘ঢাকেশ্বরী রোডসাইড মার্কেট’ নামের এই মার্কেটের চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়া। দক্ষিণ পাশে রয়েছে শহীদ আব্দুল আলীম মাঠ এবং এর পেছনে ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর। এই দপ্তরের মূল কাজ পুরো রাজধানীর মশা নিয়ন্ত্রণ করা অথচ এটির সীমানা প্রাচীরের কাছেই এই নির্মাণাধীন মার্কেটটি এখন মশার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর এই মার্কেটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনটির বেজমেন্ট এবং গ্রাউন্ড ফ্লোরের ছাদ ঢালাই করার পরপরই নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির পর এগোয়নি কাজ। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ ঝুলিয়ে রাখায় শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে ডিএসসিসি। ঠিকাদার বিদায় হওয়ার পর কাজ বন্ধ থাকায় ভবনের উন্মুক্ত বেজমেন্ট, অসমাপ্ত ফ্লোর, খোলা পিলারের বেস ও ড্রেনেজবিহীন গর্তে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমেছে। এই পানি নিয়মিত অপসারণ বা ভবনটি পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় নির্মাণাধীন পুরো ভবনটি পরিণত হয়েছে নিবিড় মশা চাষ প্রকল্পের খামারে। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই মার্কেটে ‘মশার কারখানা’ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। যে প্রতিষ্ঠান নাগরিকদের সচেতন করছে, আইন প্রয়োগ করছে এবং জরিমানা করছে; তাদের নিজস্ব স্থাপনাতেই যদি মশার লার্ভা জন্মানোর পরিবেশ থাকে, তাহলে তা সত্যিই দুঃখজনক। আসলে সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা। তাই ডিএসসিসির নিজস্ব ভবন, মার্কেট, পার্ক, ড্রেন এবং অন্যান্য স্থাপনায় নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। ‘চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম’ কথাটিকে স্মরণে রেখে ডিএসসিসির উচিত নিজের ঘর গোছানোর পরই অন্যকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো। তাদের নিজেদের যত ধরনের মার্কেট ও স্থাপনা আছে, সেগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে মশা উৎপাদন বন্ধ করতে তৎপর হওয়া বাঞ্ছনীয়। 

আমরা মনে করি, শুধু জরিমানা দিয়ে মশার সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং বিজ্ঞানসম্মত মশক নিধন কার্যক্রম এক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর হবে। কোথাও নির্মাণাধীন ভবন, কোথাও পরিত্যক্ত টায়ার, আবার কোথাও ছাদের পানির ট্যাংক বা ফুলের টবে জমে থাকা পানিÑ এসবই মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। তাই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাÑ সব পক্ষকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বল্পায়ুর ক্ষুদ্র প্রাণী মশা আজ নগরবাসীর জন্য ভয়ংকর সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অবশ্য ঢাকা মহানগরী কখনোই মশামুক্ত ছিল না। তবে মশামুক্ত করার ঘোষণা এবং সে লক্ষ্যে কাগুজে পদক্ষেপের কথা তারা অনেক শুনেছে। কিন্তু সবই যেন শুভঙ্করের ফাঁকি। মশা নির্মূলের প্রোগ্রাম হচ্ছে, অর্থ খরচ হচ্ছে বানের পানির মতো, কিন্তু মশা রয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে। এ অব্স্থা চিরস্থায়ী রূপ পরিগ্রহ করলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। আমরা বলতে চাই, জনগণ তথা নগরবাসীর ওপর আইন প্রয়োগের আগে সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিদের উচিত নিজেদের আঙিনায় নজর দেওয়া। মশা তারা নির্মূল করতে পারবেনÑ এমন ভরসা বোধকরি কেউই করেন না। তবে এর উপদ্রবের মাত্রা নিশ্চয়ই কমিয়ে আনতে পারেন। সেজন্য প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। লোক দেখানো অভিযান আর প্রচারণার বাগাড়াম্বরের পথ পরিহার করে তাদের উচিত আন্তরিক হওয়া।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা