× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিশুর হাতে থাকুক নিরাপদ খেলনা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

শিশুদের খেলনা। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের খেলনা। ছবি: সংগৃহীত

খেলনা শিশুদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু। বস্তুত খেলনা তৈরিই হয় শিশুদের জন্য। পৃথিবীতে এমন কোনো শিশু খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে খেলনা পছন্দ করে না এবং তা পেতে চায় না।

বরং লোভনীয় ও সুস্বাদু খাবার আর মনকাড়া রঙ ও ডিজাইনের একটি খেলনা পাশাপাশি রাখলে শিশু খেলনাটির দিকেই হাত বাড়াবে। এটা পরীক্ষিত সত্য। শিশুকে নিরস্ত রাখতেও খেলনা এক উত্তম সামগ্রী। খেলনার প্রতি শিশুদের এই দুর্নিবার আকর্ষণকে পুঁজি করে দেশ-বিদেশে গড়ে উঠেছে নানারকম খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ধাতব, প্লাস্টিক ও রাবারজাতীয় উপাদানে তৈরি হয় শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় সব খেলনা।

এছাড়া আমাদের দেশে মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে তৈরি করে থাকে নানারকম পশুপাখি এবং খেলনা হাঁড়িপাতিল। এ সব খেলার সামগ্রীর বিপুল চাহিদা থাকায় তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুক নিরাপদ বা হুমকি সেদিকে খুব একটা মনোযোগ দেওয়া হয় না। তবে ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) নামের একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত ও বিদেশ থেকে আমদানি ও বাজারজাতকৃত শিশুদের খেলনার প্রায় সবগুলোই অনিরাপদ ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

সংস্থাটি ফিলিপাইনের ব্যান টক্সিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা চালিয়ে দেখতে পায়, প্রায় প্রতিটি খেলনায় পারদ, সিসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর ভারী ধাতব উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি রয়েছে। এই গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় গত ২৩ জুন এক প্রজ্ঞাপনে বিষাক্ত শিশুখেলনার উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ পরিবেশিত খবরে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। 

সরকারের এ সিদ্ধান্ত সর্বান্তঃকরণে সমর্থনযোগ্য। কেননা, জাতির ভবিষ্যৎ নাগরিক শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে হেলাফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিশুরা যেহেতু তাদের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সচেতন থাকার কথা নয়, তাই অভিভাবক তথা দেশের সরকারকেই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো খেলনা যাতে ওদের হাতে না পৌঁছে, সে ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বনের বিকল্প নেই।

শিশুরা সাধারণত হাতের কাছে কিছু পেলেই তা মুখে তুলে থাকে। তেমনি তারা শুধু হাত দিয়ে খেলনা নাড়াচাড়া করে না, প্রায়শই তা মুখের স্পর্শে আনে। ফলে খেলনার উপাদানে উপস্থিত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ খুব সহজেই শিশুদের শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। এতে একটি শিশু কৃমির সংক্রমণ, উদরাময়, এমনকি ক্যানসারের মতো জটিল ও কঠিন রোগের শিকার হতে পারে। 

এসডোর গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুর দেহে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে বাজারে চলমান শিশুর খেলনাসামগ্রীতে। যেখানে সিসার গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৯০ পিপিএম, সেখানে অধিকাংশ খেলনায় এই ধাতব উপাদানের উপস্থিতি ১ হাজার ৩৮০ পিপিএম। এভাবে আর্সেনিক ২৫ পিপিএমের স্থলে ২৪৭ পিপিএম, ক্রোমিয়াম ৬০-এর জায়গায় ১ হাজার ৩৯০ পিপিএম রয়েছে। ব্যারিয়ামের সহনীয় মাত্রা ২৫০ পিপিএম হলেও তা রয়েছে ১ হাজার ২৮০ পিপিএম। এমনকি শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দানের নিমিত্তে উৎপাদিত ও বাজারজাতকৃত প্লাস্টিক বর্ণমালায় সিসার উপস্থিতি রয়েছে ৬৬০ পিপিএম। এসডোর গবেষণা প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করলে শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় নেই। সহনীয় মাত্রার চেয়ে দশ-বিশগুণ ক্ষতিকর উপাদান শিশুদের হাতের নাগালে পৌঁছে যাওয়াটা কতটা বিপজ্জনক সে কথা ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। 

শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ, তারা জাতির আগামী দিনের কান্ডারি, ইত্যাদি ভালো ভালো কথা বললেও, প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রতি আমরা কতটা যত্নবান, সে প্রশ্ন তোলাই যায়। পরিবার থেকে সমাজ বা রাষ্ট্র, সবখানেই শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষায় অবহেলা ও ঔদাসীন্যের চিত্র প্রকটভাবেই দৃশ্যমান। শিশুখাদ্য হিসেবে বাজারে যেসব সামগ্রী পাওয়া যায়, সেগুলোর কয়টি মানসম্পন্ন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে প্রায় সবার। হয়তো এসডোর মতো কোনো সংস্থা গবেষণা করলে ওইসব খাদ্যসামগ্রীতেও বিষাক্ত উপাদানের রাজত্ব প্রমাণিত হবে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘হাঁফ ছেড়ে বাঁচল অভিভাবক’।

তবে সরকারি একটি প্রজ্ঞাপন জারির খবরে দেশে কোটি কোটি অভিভাবকের হাঁফ ছেড়ে বাঁচা বা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার অবকাশ আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা অসঙ্গত নয় বোধহয়। কেননা, আমাদের দেশে নানা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়, আইন প্রণীত হয়। কিন্তু তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর হয় না। ওইসব প্রজ্ঞাপনের অবস্থা দাঁড়ায় প্রবচনের কাজীর গরুর মতো যার অস্তিত্ব শুধু খাতায় থাকে, বাস্তবে নয়। অব্শ্য আমাদের দেশে আইন তৈরি হয় তা ভঙ্গ বা অমান্য করার জন্য এমন একটি কথা সাধারণ্যে প্রচলিত আছে। উদাহরণ হিসেবে উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ আইনের কথা বলা যায়। আইনটিতে জেলজরিমানার বিধান থাকলেও তাতে কাউকে শাস্তি পেতে হয়েছে এমন একটি নজিরও খুঁজে পাওয়া যাবে না। 

বিষাক্ত খেলনা নিষিদ্ধ করে যে প্রজ্ঞাপন সম্প্রতি জারি করেছে সরকার, তা শতভাগ কার্যকর হবে বলেই দেশবাসীর প্রত্যাশা। তবে এখানেই থেমে গেলে চলবে না। ব্যাপকভিত্তিক গবেষণায় ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে শিশুস্বাস্থ্য-বিনাশী খেলনা প্রস্তুত বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিনোদন ও মনোবিকাশের জন্য শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত খেলনাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করাও জরুরি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা