× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুলিশকে সঠিক পথে আনতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৪ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১৪ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একটি পেশাদার, দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী পুলিশ বাহিনী ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই কার্যকরভাবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছিল। তারা এই বাহিনীর অতীতে অর্জিত সকল গৌরব ম্লান করে দিয়েছে। এ কথা সত্য, দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হলে, তখন বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পুলিশকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপুটে ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক’, ‘তথ্য ফাঁস’ ও ‘রাজনৈতিক তৎপরতার’ অভিযোগ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। এই ধরনের তথ্য হাতে পাওয়ার পর কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি তালিকাও সরকারের হাতে রয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চাকরির বয়স থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর দিতে পারে সরকার। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যেকোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার ওই কর্মচারীকে ‘জনস্বার্থে’ যেকোনো সময় অবসরে পাঠাতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর প্রয়োজন নেই।

এমন বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বাধ্যতামূলক অবসর পাঠানোর সংবাদে পুলিশ প্রশাসনে তৈরি হয়েছে একধরনের অস্থিরতা। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশও। উল্লেখ্য, চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী গত দেড় বছরে বিতর্কিত বেশকিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। জানা গেছে, বর্তমান তালিকায় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পর্যায়ে অন্তত ১৭৪ জন পলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন অবসরের তালিকায়। এতে রয়েছেন ১৫, ১৭, ১৮ ও ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা, যাদের সংখ্যা প্রায় ৫৭ জন। এর মধ্যে শুধু ২০ ব্যাচেরই রয়েছেন ৫৩ জন। তালিকায় রয়েছে ওই আমলের বিতর্কিত ওসিদের নামওÑ যাদের অনেকে এখন পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় বিভিন্ন স্থানে কর্মরত। তার মানে ২৫ বছর হলেই বিতর্কিতরা আর চাকরিতে থাকতে পারছেন না। 

দেশের সংবিধান ও প্রণীত আইন অনুযায়ী যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকারের রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত যদি যথাযথ নীতিমালা, স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমান যোগ্যতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। পুলিশ বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এই অনিশ্চয়তা আরও বেশি প্রভাব ফেলে। একজন কর্মকর্তা যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তখন তার পক্ষে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার ওপর।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হওয়া উচিত পেশাদারত্ব, দক্ষতা, জনসাধারণের আস্থা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। তাই নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি কিংবা অবসরের মতো বিষয়গুলোতে সুস্পষ্ট নীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও বিধিবদ্ধ নিয়মকে প্রাধান্য দিলে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রক্রিয়া যতটা সম্ভব স্বচ্ছ রাখা হলে গুজব ও বিভ্রান্তির সুযোগ কমে যাবে। পাশাপাশি এটাও বিবেচনায় রাখা দরকার, কর্তৃত্ববাদী সরকারের ইচ্ছাপূরণে অনেক কর্মকর্তা অনৈতিক নির্দেশ পালনে বাধ্য হয়েছেন। বাধ্যতামূলক আদেশ পালনকারী আর স্বপ্রণোদিত হয়ে জনবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া পুলিশ সদস্যদের এক কাতারে ফেলে বিচার করাও সুবিবেচনাপ্রসূত হবে বলে মনে হয় না।

পুলিশ বাহিনীর কর্মপরিবেশ উন্নয়নের জন্য কেবল প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নয়, মানসিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তাদের এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বিধি মোতাবেক আইন প্রয়োগ ও জনসেবায় মনোযোগ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনেরও দায়িত্ব রয়েছে সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিযোগ বা উদ্বেগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা রাখা। একই সঙ্গে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ একটি পেশাদার বাহিনী। এ বাহিনীকে সেভাবে গড়ে তুলতে হলে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং নাগরিকবান্ধব পুলিশিংকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একটি নিরপেক্ষ ও পেশাদার পুলিশ বাহিনীই রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে পারে।

পুলিশ বাহিনীতে অবসর-আতঙ্ক বা চাকরি-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের উচিত সুস্পষ্ট নীতিমালা, স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা, যাতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলেও সদস্যদের মনোবল অটুট থাকে। কারণ একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী পুলিশ বাহিনীই নিরাপদ সমাজ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। আর সেজন্যই পুলিশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে।


সম্পাদকীয় 


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা