কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২২ ১২:২২ পিএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২ ১৩:০০ পিএম
মীর মশাররফ হোসেন। ফাইল ফটো
বাংলা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি ‘বিষাদ সিন্ধু’র লেখক মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠান রবিবার (১৩ নভেম্বর) শুরু হচ্ছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায় তার বাস্তুভিটায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।
বিকাল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি থাকবেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু, কবি ও লেখক আলম আরা জুঁই।
আলোচক থাকবেন লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমান। স্বাগত বক্তা থাকবেন চাপড়া ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মঞ্জু। সভাপতিত্ব করবেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মণ্ডল। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কুমারখালী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
জানা যায়, মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ও ছেলেবেলা কেটেছে এই লাহিনীপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন এই এলাকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্ব। মীর মশাররফ হোসেন প্রথমে জগমোহন নন্দীর পাঠশালায় পড়াশুনা শুরু করেন, এরপর তিনি কুমারখালী এম.এন. স্কুল, কুষ্টিয়া হাইস্কুল এবং রাজবাড়ী জেলায় পদমদী স্কুলে কিছুদিন পড়াশুনা করেন। পরে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। আনুমানিক ১৮৬০ সালে মশাররফ হোসেনের মা দৈলতুন্নেসা ইন্তেকাল করেন।
আত্মচরিত ‘আমার জীবনী’ গ্রন্থ পাঠে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই মীর মশাররফ সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। কুমারখালীর কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যগুরু।
কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ এবং ইশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ নামক পত্রিকা দুটিতে মশাররফ হোসেনের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় বলে জানা যায়।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা পত্রিকায় মীর মশাররফ সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনিও লিখতেন। একটা পর্যায়ে জমিদারেরা তাঁর ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। তখন লালন সাঁই অনুসারীদের নিয়ে মীরের বাড়িতে এসে পাহারা দিয়ে তাকে রক্ষা করেন। ফকির লালন সাঁইয়ের সঙ্গে মীরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা ছিল। এ ছাড়া প্রখ্যাত সাহিত্যিক-সাংবাদিক জলধর সেন, অক্ষয় কুমার মৈত্র, দীনেন্দ্র কুমার রায়রা ছিলেন তাঁর শিষ্যতুল্য।
ঊনবিংশ শতাব্দীর মুসলিম সাহিত্যিকদের অন্যতম কীর্তিমান পুরুষ মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্যের সব ক্ষেত্রেই তাঁর নিপুণ হাতের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছেন। গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, জীবনচরিত, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্মবিষয়ক প্রায় ৭৬টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ ছাড়া ‘জমিদার দর্পণ’, ‘বিবি কুলছুম’, ‘রত্নাবতী’ ও ‘বসন্তকুমারী’ নাটক তাঁর অনন্য সৃষ্টি।