বগুড়ায় অবিশ্বাস্য এক যাত্রা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি ও আয়োজকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বগুড়ায় গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এম শওকত ইসলাম রচিত আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘অবিশ্বাস্য এক যাত্রা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনের মিলনায়তনে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু।
আরও পড়ুন: জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ |
সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ।
বইটির প্রকাশক আহমদ সারওয়ারুদ্দৌলা স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ।
অনুষ্ঠানে হোটেল নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী মো. শোকরানসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে লেখক এম শওকত ইসলাম তার দীর্ঘ কর্মজীবন, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বইটি তার জীবনের নানা উত্থান-পতন, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার নির্যাস।
একজন ফাইটার পাইলট, সামরিক কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তিনি এতে তুলে ধরেছেন।
প্রকাশক আহমদ সারওয়ারুদ্দৌলা বলেন, অবিশ্বাস্য এক যাত্রা শুধু আত্মজীবনী নয়, এটি ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও মানবিক সংগ্রামের দলিল। বইটিতে এমন সব বাস্তব ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যা অনেক সময় কল্পকাহিনীকেও হার মানায়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে লেখকের দায়িত্ব পালন, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, ফাইটার পাইলটদের প্রশিক্ষণ এবং স্কোয়াড্রন জীবনের নানা দিক এতে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
পাশাপাশি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রাথমিক গঠনপ্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতাও স্থান পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রকাশকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের টানাপোড়েন, ষড়যন্ত্র, প্রতিকূলতা এবং সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতাও বইটিতে অকপটে তুলে ধরা হয়েছে।
নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মানবিক মূল্যবোধের নানা শিক্ষা থাকায় এটি শুধু ইতিহাস বা সামরিক বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য নয়, পেশাজীবী ও করপোরেট পাঠকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মত দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক জীবন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের অজানা অধ্যায় তুলে ধরতে এ ধরনের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞ মানুষের স্মৃতিচারণ ইতিহাসের অনেক অনুল্লিখিত বিষয় সামনে নিয়ে আসে।
লেখক এম শওকত ইসলাম ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চকযাদু ফ্রি প্রাইমারি স্কুল, করনেশন হাই স্কুল ও বগুড়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন।
পরে রাজশাহী সরকারি কলেজ ও আজিজুল হক কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
তার বাবা আবদুস সামাদ ছিলেন ডাক বিভাগের কর্মকর্তা এবং মা হেমায়েতুন নেছা সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সন্তানদের যুদ্ধে যেতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তিনি দেশপ্রেমিক মানসিকতার পরিচয় দেন।
পরিবার থেকে পাওয়া শিক্ষা, নৈতিকতা ও সমাজসেবার মূল্যবোধ লেখকের জীবন ও কর্মে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বইটির সফলতা কামনা করেন এবং এটি পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাভিত্তিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।