প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৫০ পিএম
সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য ঘুম একটি অপরিহার্য উপাদান। ছবি : সংগৃহীত
সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণা অনুযায়ী, দৈনিক ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম না হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, ঘুমের ঘাটতি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বয়স অনুযায়ী ঘুমের হিসাব
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের রাতে অন্তত ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন, তবে নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঠিকঠাক ঘুমাতে পারলেও ওরা নিজেকে চালিয়ে নিতে পারে। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে কারও কারও নিয়মিত ৭ ঘণ্টা ঘুমালেও চলতে পারে। আর বয়ঃসন্ধির সময়টাতে অনেকেরই প্রায় ১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ১১ ঘণ্টার চেয়ে বেশি ঘুমালে তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।
১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন, তবে কারও কারও নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুমেও সব ঠিকঠাক থাকতে পারে। ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭-৮ ঘণ্টা।
ঘুমের অভাবে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় না, তাদের শরীরে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সুস্থ থাকার জন্য সকলের পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। পনিমাণ মত ঘুম না হলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুস্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই নিয়মিত ঘুমের প্রয়োজন।
স্মৃতিশক্তি হ্রাস : পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সঠিক ঘুমের অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি : অনিদ্রা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। এতে সহজেই যে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে।
হৃদরোগের ঝুঁকি: ঘুমের অভাবে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ঘুমের প্রয়োজন।
মানসিক চাপ : ঘুম কম হলে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়, যার কারণে যে কেউ সহজে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে হতে পারে।
ভালো ঘুমের জন্য করণীয়
১) নিয়মিত ঘুমের সময় নির্ধারণ করুন – প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও উঠুন।
২) স্ক্রিন টাইম কমান – ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল, ল্যাপটপ ও টিভি দেখা বন্ধ করুন।
৩) শরীরচর্চা করুন – নিয়মিত ব্যায়াম করলে ঘুম ভালো হয়।
৪) ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন – সন্ধ্যার পর চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করুন।
৫) ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন – শান্ত ও অন্ধকার ঘর ঘুমের জন্য ভালো। তাই ঘুমানোর আগে ঘরকে ঘুমের উপযোগী করে নিন।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুম শুধু আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়ায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্যের জন্যও প্রয়োজনীয়। তাই আজ থেকেই ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ জীবন উপভোগ করুন।
তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা