রূপসা
নুসরাত খন্দকার
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৪ ১৫:৫৮ পিএম
ক্রিম না জেল, মেডিকেটেড না ওটিসি, ফোমিং না নন-ফোমিং, ক্লিনজার কেনার আগে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন জানুন। তারপর সে অনুযায়ী উপযোগী ক্লিনজার বেছে নেওয়া হবে ত্বকের যত্নের প্রথম ধাপ।
সকাল-সন্ধা প্রতিদিন ব্যবহার করছেন, হাতের কাছে যেটা পাচ্ছেন, বিজ্ঞাপন দেখে কিংবা যেটা পছন্দ হচ্ছে সেটাই কিনে এনে মুখে ঘষছেন। আর ভাবছেন এতেই ত্বক ঝকঝকে হয়ে যাবে। আদতে তা ত্বকের কাজে লাগল কি না বা ত্বকের উপযুক্ত কি না সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। রূপচর্চা করে না যারা, তারাও প্রতিদিন অন্তত একবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন। তবে ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার সঠিক না হলে ত্বক পরিষ্কার হবে না। আর ত্বক যদি ভালোভাবে পরিষ্কার না হয়, তাহলে বাদবাকি যত্ন নেওয়া-না-নেওয়া সমান। আর সঠিক ফেসওয়াশ বাছার কাজটাও একদমই সহজ নয়। ফেসওয়াশ কেনার আগে ত্বকের ধরন, তার প্রয়োজন বোঝা জরুরি।

সঠিক ফেসওয়াশ
বেছে নিতে
ফেসওয়াশের প্রাথমিক
কাজ ত্বক পরিষ্কার করা। তবে ত্বক পরিষ্কার না হলে সেটা বিভিন্নভাবে জানান দিতে পারে।
যদি ফেসওয়াশ
ব্যবহার করার পর এ সমস্যাগুলো হয়, তাহলে বুঝবেন ফেসওয়াশ বদলানোর সময় হয়েছে। তবে
ফেসওয়াশ কেনার সময় সবার আগে ত্বকের ধরন মাথায় রাখুন। এ ছাড়া ত্বকে বিশেষ কোনো সমস্যা
থাকলে সেটাও অবশ্যই মনে রাখা দরকার।
শুষ্ক ত্বকের
জন্য
শুষ্ক ত্বক যেহেতু বেশিক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না, তাই খসখসে, রুক্ষ মনে হয়। জেন্টল, মাইল্ড ফেসওয়াশ এ ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত। কোনো ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড বা তেল থাকলে ভালো। চেষ্টা করুন পেট্রোল্যাটাম, সেরামাইড, গ্লিসারিন, ল্যানোলিন বা মিনারেল অয়েল রয়েছে এমন ক্লিনজার বেছে নিতে। শুষ্ক ত্বকের পক্ষে ফোমিং ফেসওয়াশও ঠিক নয়। ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে যত বেশি ফেনা হবে, তত বেশি আর্দ্রতা হারাবে ত্বক। তাই এ ধরনের ত্বকের জন্য নন-ফোমিং ফেসওয়াশও বাছা জরুরি।

তৈলাক্ত ত্বকে
ত্বকের ধরন তেলতেলে
হলে ক্লিনজারে অ্যালোভেরা বা টি-ট্রি অয়েলের মতো উপাদানসমৃদ্ধ ফেসওয়াশ কিনুন। দুটোই
মাইল্ড প্রকৃতির, ত্বকের অয়েল প্রোডাকশন ব্যালান্স করতে এবং ত্বকে ক্ল্যারিটি আনতে
সাহায্য করে। অনেকেই এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করে খুশি হন, যা ত্বকের সব তেল শুষে নিয়ে
তা শুষ্ক করে দেয়। অতিরিক্ত তেলতেলেভাব পছন্দ না হতেই পারে, তবে ত্বক একেবারে শুষ্ক
করে ফেললেও সমস্যা। ক্লিনজারে কোনো ধরনের তেল বা অ্যালকোহল রয়েছে কি না তা-ও দেখে
নিন। এগুলো ত্বকে তেলের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। যদি ব্রণের সমস্যা থাকে, তাহলে স্যালিসাইলিক
অ্যাসিড-বেসড ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
স্বাভাবিক
ত্বক
স্বাভাবিক ত্বকের
জন্য জেন্টল, ডেলি ক্লিনজার সবচেয়ে ভালো। হাইড্রেটিং, নারিশিং এ শব্দগুলো বোতলের গায়ে
লেখা থাকলে ভালো। ক্লিনজারে কোনো ধরনের অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট থাকলে তাতেও উপকার
পাবেন। ভিটামিন এ, সি, ইতে সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
মিশ্র ও সেনসিটিভ
ত্বকের জন্য
এ ধরনের ত্বকের
জন্য জরুরি আলট্রা-জেন্টল ক্লিনজার। প্যারাবেন, সোপ, ফ্র্যাগ্রান্স এবং অ্যালকোহলমুক্ত
ও হাইপোঅ্যালার্জেনিক ফেসওয়াশ বেছে নিন। ত্বক ইরিটেটেড হবে না। শুষ্কতা এবং তৈলাক্তভাব
দুটোই ব্যালান্সড হবে। ফোমিং ক্লিনজারও এ ধরনের ত্বকে এড়িয়ে চলা ভালো। পরিবর্তে ক্রিম-বেসড,
মেডিকেটেড ক্লিনজার ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাবেন।
ব্রণ থাকলে
ব্রণ ত্বকের এমন একটা সমস্যা, যার বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার। ফোমিং ফেসওয়াশের বদলে ক্রিম ক্লিনজার ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত তেলতেলেভাব থেকে ব্রণ বাড়ে ঠিকই, তবে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়লে কিন্তু সমস্যা কিছু কমবে না। তাই প্রাকৃতিক অয়েল ও ওয়াটার ব্যালান্স বজায় রাখার চেষ্টা করুন। অনেকে ব্রণের সমস্যায় মেডিকেটেড ক্লিনজার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যেন একই সঙ্গে অন্য কোনো অ্যাকনে ট্রিটমেন্ট না ব্যবহার করেন। একসঙ্গে নানা ধরনের ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করলে ত্বক রিঅ্যাক্ট করতে পারে।

মনে রাখবেন