প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ২০:০৫ পিএম
শুনানি শেষে আসামিদের আদালত থেকে বের করা হচ্ছে। ছবি: প্রবা
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের গাড়িতে হামলা ও মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপিরর ১১ নেতা-কর্মীকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। এ সময় আসামিদের পক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী। পরে তিনি আসামিদের দুই দিন করে রিমান্ড আদেশ দেন।
রিমান্ড আদেশ দেয়া আসামিরা হলেন- ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সুমিত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসাইন খান এবং কলাবাগান শাখা ছাত্রদলের সদস্য মো. রবিন খান ও মো. সাগর, জসিম উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, মতিউর রহমান নিরব, শামিম রহমান, জামাল হোসেন, আরিফুল ইসলাম ও আবু তাহের।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মনজুরুল হাসান খান আসামিদের ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।
আসামিদের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
বুধবার (২ নভেম্বর) পল্টন এলাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপি সমাবেশ থেকে বিচারপতি মানিকের গাড়িতে হামলা করা হয়। পরে এ ঘটনায় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম মামলা করেন।
মামলায় অজ্ঞাত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
শুনানি শুরু হয় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুলের বক্তব্য দিয়ে। তখন বিচারক বলেন, 'এ মামলাতো ডিবিতে চলে গেছে। আপনি এখন এ মামলা চালিয়ে নিতে পারবেন না।'
রিমান্ডের বিষয়ে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা বক্তব্য রাখবেন। এরপর বিচারক তার খাসকামরায় চলে যান।
কিছুক্ষণ পর পরিবর্তিত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা এজলাসে বাদীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রিমান্ডের পক্ষে কথা বলে জামিনের বিরোধিতা করেন।
আসামিদের পক্ষে শুনানিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা আদৌ ঘটেনি। এজাহারে আসামিদের কারও নাম নাই। সমাবেশেও তারা উপস্থিত ছিলেন না। সমাবেশে এমন ভীড় ছিল যে তিল ধারণের কোনো জায়গা ছিল না। এ সমবেশে কী করে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে? এটি অলীক, উদ্দেশ্যমূলক কল্পকাহিনী। দোষ তাদের একটাই, তারা বিএনপিপন্থি। তারা নির্দোষ, হয়রানির জন্য এ মামলা করা হয়েছে।