প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:২৬ পিএম
পুলিশ হেফাজতে বডিবিল্ডার ফারুক হোসেনের মৃত্যুর অভিযোগে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালত ডিবি পুলিশকে এই নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৮ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওসি ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন বংশাল থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক, আবু সালেহ, মাসুদ রানা ও বুলবুল আহমেদ। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহতে ফারুকের স্ত্রী ইমা আক্তার হ্যাপী গত মঙ্গলবার আদালতে মামলার আবেদন করেন। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। গত ১২ জানুয়ারি বংলাশ থানার পুলিশ বডিবিল্ডার ফারুককে আটক করে। তাকে মাদকের মামলা দিয়ে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ফারুককে কারগারে পাঠায়। গত ১৪ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে কেরাণীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অচেতন হয়ে পড়েন ফারুক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরিবারের অভিযোগ, ফারুককে আটকে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেছিল পুলিশ। টাকা না পেয়ে ফারুককে মারপিট করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তাকে সন্দেহজনকভাবে কায়েতটুলী ফাঁড়ির কতিপয় পুলিশ সদস্য আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন। খবর শুনে দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে হ্যাপী সেখানে ছুটে যান। সেখানে দেখেন, ফারুককে পুলিশ সদস্যরা মারধর করে আটকে রেখেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাকে সিএমএম আদালতে নেওয়া হলে সেখানে তার সাক্ষাৎ পান হ্যাপী। সে সময় মারধরের কথা স্ত্রীকে জানান ফারুক। তার কিছু হলে আদালতে বিচার চাইতে বলেন। ফারুকের বিরুদ্ধে ১৫০ গ্রাম গাঁজার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন হ্যাপী। ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক ব্যক্তি হ্যাপীকে জানান, ফারুক মারা গেছেন। হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ দেখতে পান। ফারুকের গলায়, বুকে, পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। টাকা না দেওয়ায় ফারুককে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর পর পুলিশ হত্যা করেছে দাবি করে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান স্ত্রী ইমা আক্তার হ্যাপী।