কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:১৬ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:৩২ পিএম
রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ। ফাইল ফটো
কক্সবাজারের উখিয়ায় আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছরের মাথায় রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফরিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফরিদুল আলম বলেন, ‘২৯ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্রটি আদালত গ্রহণ করে বিচারকাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এখন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ শুরু হবে। বিচারক আদালতের কার্যক্রম শেষে বিচার শুরুর জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করবেন।’
পিপি ফরিদ আরও জানান, চার্জ গঠনের মাধ্যমে আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। চার্জ গঠনের সময় এই মামলার ২৯ আসামির মধ্যে ১৫ জন আদালতে হাজির ছিল। বাকি ১৪ আসামি পলাতক রয়েছে। মামলায় মোট ৩১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী তারিখে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। এই মামলায় উখিয়া থানা পুলিশ গত ১৩ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিল।
উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ১৫ জনের মধ্যে ৪ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৩ জন সাক্ষীও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে ৩৬ জনকে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হলেও ৭ জনের ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নেওয়া নানা উদ্যোগে তার ভূমিকা ছিল।
গত ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সংগঠনের কার্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ।
এ ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশ।
প্রবা/রাই/এমজে