প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৪৬ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৩২ পিএম
ইলিশ মাছ।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রোববার নোটিসটি পাঠান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালযয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালযয়ের সচিব, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর নোটিসটি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। লিগ্যাল নোটিসটি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় ওই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
নোটিসে বলা হয়েছে, ‘ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। কিন্তু অত্যধিক দামের কারণে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ইলিশ কেনার কথা চিন্তাও করতে পারে না। এমনকি দেশের মধ্যবিত্ত জনগণও ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে ইলিশের দাম গড়ে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া, বাজারে সবচেয়ে সুস্বাদু পদ্মার ইলিশের দাম গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি। কিন্তু পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। বাজারে যেসব ইলিশ পাওয়া যায় সেগুলো অন্য নদীর ও সামুদ্রিক ইলিশ মাছ ।’
লিগ্যাল নোটিসে আরও বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এই যে, দেশের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা না করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের দাম আরও বেড়েছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশের বাজার দরের চেয়ে কম মূল্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে। ভারতে যে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত পদ্মার ইলিশ। এমনিতেই পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়। এই পদ্মার ইলিশ ভারতে রপ্তানির ফলে বাংলাদেশের বাজারগুলোতে পদ্মার ইলিশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের রপ্তানিনীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী ইলিশ মুক্তভাবে রপ্তানিযোগ্য পণ্য নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অনায্যভাবে, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। সরকার যদি বিদেশিদের ইলিশের স্বাদ উপভোগ করাতে চায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ‘ইলিশ উৎসব’ আয়োজন করতে পারে। যেখানে বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এমনকি আসন্ন দুর্গাপূজায় ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে বাংলাদেশে ভ্রমণ করে ইলিশের স্বাদ উপভোগ করার। এখানে উল্লেখ্য যে, পর্যটন করপোরেশন আইন (বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন অর্ডার) এর ধারা ৫ অনুযায়ী, পর্যটনের উন্নয়ন, বিকাশ, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করাসহ পর্যটনের সব উৎকর্ষ সাধনের দায়িত্ব পর্যটন করপোরেশনের।
প্রবা/জিজি/ এসআর