× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মামলায় ভয়, তদন্তে গাফিলতি হত্যার বিচারে বড় বাধা

জামশেদ নাজিম

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩৯ পিএম

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৪০ পিএম

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির রান্নাঘরের পাশে লাকড়ি রাখার ঘরে পাওয়া যায় আইমানের মরদেহ। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গমদণ্ডী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আইমান হক কায়েফ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটিকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করতে বলা হলে আইমানের পরিবার তাতে রাজি হয়নি। তাদের দাবি, আইমানকে জিনে মেরেছে। মামলা করলে তাদের আরও বিপদ হবে। তিন মাস পর বোয়ালখালী থানা-পুলিশ অপমৃত্যু মামলাকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। 

ঘটনার চার বছরে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে সাতবার। পুলিশ সদর দপ্তর ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়। সেখানে তিনজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। এখনও মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছিলেন পরিদর্শক মোহাম্মদ জহির হোসেন। সম্প্রতি তিনি বদলি হয়ে গেলে অষ্টম তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘটনা সম্পর্কে জহির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আইমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তদন্তে কোনো সহায়তা করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলেও কেউ সাড়া দেয়নি।

এমন অনেক ঘটনা আছে, যা বিচারের জন্য আদালত পর্যন্ত গড়ায়নি। অনেক দরিদ্র পরিবারও নানা ঝামেলার আশঙ্কায় আদালত পর্যন্ত যেতে চায় না। এ ছাড়া রয়েছে মামলার তদন্তে থানা-পুলিশের গাফিলতি। মাঝেমধ্যে শিশুহত্যায় জড়িতদের আটক করা হলেও বছরের পর বছর মামলার তদন্ত ফাইলবন্দি হয়ে থাকে। অপরাধীও জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। 

এরই মধ্যে পিবিআই বেশকিছু শিশুহত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। তবে অনেক মামলার আসামিদের শনাক্তই করা যায়নি। শিশুহত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তে কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছে পিবিআই সদর দপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশের গাফিলতি, হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে চিকিৎসকের গড়িমসি, প্রভাবশালীদের চাপসহ নানা কারণ।

শিশুহত্যা মামলা-সংক্রান্ত পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২৯৭টি মামলার তদন্ত করা হয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের তদন্তে ২৯৭টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৫৫টি। এর বাইরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে ১০৮টি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ৪৭টি মামলার। এ ছাড়া তদন্তাধীন রয়েছে ১৪২টি মামলা। এসব মামলার অধিকাংশ থানা-পুলিশ থেকে অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে আসছে। গুরুত্বের সঙ্গে এসব মামলার তদন্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়া থানায় দায়ের করা শিশুহত্যার একটি মামলার তদন্তকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ার কারণ হিসেবে সেখানকার পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার শহিদ আবু সরোয়ার বলেছেন, মামলা তদন্তে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন খুবই জরুরি। যেমন সাত বছরের শিশু সুরাইয়া পারভীন হত্যার ঘটনায় হাসপাতাল থেকে ৯ মাসেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল থেকে যথাসময়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না এলে তদন্তের অগ্রগতি ও অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া যায় না। 

শিশুহত্যা মামলার বিচারকাজের জন্য আদালতে সাক্ষী হাজির করা এবং তদন্ত দ্রুত সময়ে শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন আইনজীবী শান্তনু ধর। তিনি বলেন, বিচারকাজে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যথাসময় আদালতে হাজির না হলে মামলার কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। ফলে একপর্যায়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বাদী। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে যুগোপযোগী আইন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইন প্রয়োগ ও যথাসময়ে বিচার শেষ না হলে শিশুহত্যা বন্ধ হবে না। 

এ বিষয়ে বিশেষ আদালতের (আদালত-৮) সরকারি কৌসুঁলি (পিপি) আমির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার প্রথম দায়িত্ব মামলার বাদীর। অনেক সময় আথির্ক সক্ষমতা না থাকায় তারা অপরাধীদের শক্তির কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। প্রভাবশালীদের ভয়ভীতির কারণে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে আদালত থেকে সাক্ষীদের হাজির হতে পরোয়ানা জারি করা হয়। তখন পুলিশের দায়িত্ব ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা। তিনি বলেন, একজন পিপির কাজ সাক্ষ্য সঠিকভাবে আদায় করা। এক্ষেত্রে তিনি পুলিশকে আন্তরিকভাবে সঠিক দায়িত্ব পালন করার কথা বলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন আইনি সহায়তা দিয়ে আসছে, তাদের কার্যকর ভূমিকার কথাও বলেন এই পিপি। 

সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ বলেন, শিশুহত্যা বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তদন্ত থেকে শুরু করে আদালতে সাক্ষী হাজির করা এবং বিচার শেষে শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকতে হবে। পুলিশের যে ভূমিকা আছে, তা তাদের পালন করতে হবে। প্রতিটি সেক্টরে সবার এগিয়ে আসতে হবে। না হলে শিশুহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা