× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তাদের কাছে কোনো শিশু নিরাপদ নয়: আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের (সোহেল ও স্বপ্না) উপস্থিতিতে রবিবার বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের (সোহেল ও স্বপ্না) উপস্থিতিতে রবিবার বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

“তাদের অপরাধ সংশোধনের যোগ্য নয়। তাদের কাছে কোনো শিশু নিরাপদ নয়।” 

বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময় এমন কঠোর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে রবিবার বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন।

আদালতকক্ষে আবেগঘন পরিবেশ

রায় ঘোষণার পুরো সময় আদালতকক্ষে ছিল আবেগঘন পরিবেশ।

বিচারক পর্যবেক্ষণ পাঠ করার সময় অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাকে। 

অন্যদিকে আসামি স্বপ্না আক্তারকে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।

আদালতকক্ষে উপস্থিত স্বজন, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে স্পষ্ট হয়েছে যে শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল।

আদালত আরও বলেন, প্রধান আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারেরও কোনো আবেদন করেননি, যা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে বিচারক বলেন, ঘটনার সময় তিনি ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন। রামিসাকে বাঁচানোর সুযোগ থাকলেও তিনি কোনো ধরনের প্রতিরোধ বা সহায়তার চেষ্টা করেননি। বরং তার নিষ্ক্রিয়তা ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার প্রমাণ বহন করে। এ কারণে স্বপ্নাও একই অপরাধে সমানভাবে দায়ী।

আদালত বলেন, “তাদের অপরাধের ভয়াবহতা, ঘটনার নির্মমতা এবং একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি বর্বর আচরণ বিবেচনায় তারা দয়ার যোগ্য নয়। তাদের কাছে কোনো শিশু নিরাপদ নয়।”

এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী হিসেবে তার মা-বাবাকে দিতে হবে

অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে রামিসার পরিবারকে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টায় স্বপ্না আক্তারকে এবং সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে দুজনকে এজলাসে তোলা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে ঢাকার পল্লবীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান স্বপ্না। সেখানে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে।

পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা