প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
রামিসা আক্তার। ফাইল ছবি
হত্যাকাণ্ড সংঘটনের ১৯ এবং মামলা দায়েরের ১৮ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন, অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিদের সাফাই সাক্ষ্যসহ যাবতীয় বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে, যা দেশের বিচারাঙ্গণের একটি মাইলফলক।
এই মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ সকাল ৮টায় আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আর তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। তাদের মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হবে। এরপর সকাল ১০টার পরে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু গকতাল শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভিকটিম রামিসাকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবেনÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রামিসা আক্তার ঢাকার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। পরে ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামিদের বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
একই দিন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিনে আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। পরে গত ১ জুন আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানায়, মামলাটির অভিযোগ গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। দেশের বিচারাঙ্গনে এত অল্প সময়ে একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার ঘটনা বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রামিসার পরিবার আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। শিশুটির স্বজনদের ভাষ্য, তারা এমন শাস্তি চান যা ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।