স্বপ্নাকে দেখিয়ে রামিসার মা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬ ২১:৫৩ পিএম
রামিসার মা পারভীন আক্তার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়েছেন তার মা পারভীন আক্তার। এ সময় তিনি বলেন, পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা স্বপ্না বেগমকে বারবার দরজা খুলতে অনুরোধ করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মেয়ের মরদেহের বিভৎস অবস্থা দেখতে পান।
ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মঙ্গলবার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন পারভীন আক্তার।
আদালতে তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা আক্তারকে তার চাচার বাসায় যেতে বললে ছোট মেয়ে রামিসাও সঙ্গে যেতে চায়। তবে তাকে বাসায় থাকতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর রান্নাঘরে থাকা অবস্থায় একটি শিশুর চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে ছোট মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
সাক্ষ্যে পারভীন বলেন, বড় মেয়ে ফিরে আসার পর জানতে পারেন রামিসা তার সঙ্গে যায়নি। এরপর ভবনের বিভিন্ন তলা ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজার সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পান। তখনই তার সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তিনি বলেন, বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলেনি। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় আরও লোকজন জড়ো হয় এবং দরজা ভাঙার চেষ্টা শুরু হয়। এ সময় স্বামীকেও ফোন করে বিষয়টি জানান।
পারভীনের ভাষ্য, দরজার লক ভাঙার পর ছোট একটি ছিদ্র দিয়ে ভেতরে রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। তখন তিনি স্বপ্না বেগমকে ঘরের ভেতরে চলাফেরা করতে দেখেন এবং বারবার দরজা খুলতে অনুরোধ করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে মেয়ের মরদেহের ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান বলে আদালতকে জানান তিনি। তার দাবি, রামিসার দেহ ও মাথা আলাদা স্থানে রাখা ছিল। এ দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাকে কাঠগড়ায় থাকা আসামি স্বপ্না বেগমকে শনাক্ত করতে বললে তিনি স্বপ্নার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কতবার কইছি বইন দরজাটা খুলে দে, সে খোলে নাই।’ এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার মা।