প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ২০:৩০ পিএম
শিশু রামিসা। ফাইল ফটো
ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় সোমবার অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
এর আগে, গত ২৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত মামলার অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করে তা বিচারের জন্য প্রস্তুত ঘোষণা করেন। এরপর মামলাটি ঢাকা মহানগর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আদেশ দেওয়া হয়। পরে ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল কালাম আজাদ এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) চার্জ গঠনের শুনানির মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে। আমরা আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণা করা হবে’।
তিনি আরও জানান, আদালতের ১৫ জুন পর্যন্ত অবকাশকালীন ছুটি থাকলেও এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ছুটি সরকার বাতিল করেছে এবং বিচারক তা গ্রহণ করেছেন। ফলে মামলার কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা আসবে না।
এর আগে, গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এসআই অহিদুজ্জামান বলেন, ‘সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে’।
তিনি জানান, মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অভিযুক্ত সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসারই অন্য একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে তাদের ঘরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলদের রুমের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন রামিসার মা। সেখানে বাথরুমের বালতির ভেতরে রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথা এবং খাটের নিচে মাথাহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় ঘর থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না পুলিশকে জানান, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করার পর তাকে হত্যা করেন সোহেল। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা কেটে আলাদা করা হয়েছিল।