কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ১৫:১৮ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৬ ১৭:১৯ পিএম
মো. তানজিম ছারোয়ার নির্জন। ফাইল ছবি
কক্সবাজারে চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম ছারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
একই ঘটনায় দায়ের করা পৃথক অস্ত্র মামলায় ১৩ জনকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ডের রায়ও দেওয়া হয়েছে। উভয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন ৫ জন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বুধবার দুপুরে এ রায় দেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ও বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এ তথ্য জানান।
উভয় পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, মামলার রায় প্রদানকালে ১২ জন অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একজন আসামি পলাতক রয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে ১২ আসামিকে আদালতে আনা হয়। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে শুনানি শেষে বিচারক ডাকাতি ও হত্যা মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে খালাস প্রদান করে রায় দেন। এছাড়া পুলিশের দায়ের করা পৃথক অস্ত্র মামলায় ১৩ জনকে ১৭ বছরে করে কারাদণ্ড ও ৫ জনকে খালাস প্রদান করে রায় দিয়েছেন আদালত।
হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ জন হলো চকরিয়ার ডুলহাজার ইউনিয়নের পূর্ব ডুমখালী এলাকার জাফর আলমের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন, রিংভং এলাকার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন, পূর্ব ডুমখালী এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন, একই এলাকার আবুল কালাম কবিরাজের ছেলে মোর্শেদ আলম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জন হলো, চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনার নুরুল কবিরের ছেলে জামাল উদ্দিন বাবুল, পতিয়ারঘোনা এলাকার মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, ভরামুহুরি এলাকার আকতার আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ার হাকিম, পূর্ব মাইজপাড়ার মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে জিয়াবুল করিম, একই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মো. ইমাঈল হোসেন, পূর্ব মাইজপাড়ার মৃত নুরুল আলমের ছেলে এনামুল হক প্রকাশ তোতা এনাম, পূর্বডুমখালী এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম লালুর ছেলে মোহাম্মদ এনাম, রংমহল এলাকার নুর আলম মিস্ত্রির ছেলে মো. কামাল, রিংভং এলাকার গোলাম কাদেরের ছেলে আবদুল করিম।
মামলার রায় প্রদানকালে ১৩ জনের মধ্যে গোলাম কাদেরের ছেলে আবদুল করিম ছাড়া অপর ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলায় খালাস প্রাপ্ত ৫ জন হলেন, মো. ছাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, শাহ আলম, আবু হানিফ, মিনতাজ উদ্দিন।
মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় ডাকাতদলের সদস্যরা পালাতে চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩) তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সেনা বাহিনীর ফাঁসিয়াখালী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ডাকাতি ও হত্যা এবং পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। যেখানে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫ জনের নাম ছিল।
গত ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ তদন্ত শেষ করে ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র ( চার্জশিট) দাখিল করেছে।
সেনা কর্মকর্তা হত্যায় ১৭ জনের নামে মামলা হলেও সেখান থেকে এই হত্যাকাণ্ডে ৬ জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগপত্র থেকে। ব্যাপক তদন্তে বের হয়ে আসা এজাহারের বাইরে থাকা আরও ৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ার পর বিচারকার্য শেষে বুধবার আদালত এ রায় প্রদান করেন।
লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।