ম্যাগনেট পিলার প্রতারণা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ ২২:২৬ পিএম
ম্যাগনেট পিলার প্রতারণা: বড় বোনের হয়ে কারাগারে যাওয়ার অভিযোগে ছোট বোন রিমান্ডে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দীর্ঘ ৩০ বছর হংকংয়ে ছিলেন ব্যবসায়ী আজিজুল আলম। ম্যাগনেট পিলার জোগাড় করার মোহ পেয়ে বসেছিল তাকে। কিন্তু কী হবে সেই ম্যাগনেট পিলার দিয়ে? লোকে বলে, ব্রিটিশ আমলের এই আর্থিং পিলারের নাকি অলৌকিক সব ক্ষমতা আছে। সেই কুসংস্কার তাকেও পেয়ে বসেছিল।
কথিত ‘ম্যাগনেট পিলার’ পাওয়ার আশায় তিনি খরচ করেছেন নগদ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা; এ ছাড়াও লিখে দিয়েছেন ১৫ কোটি টাকার জমি। মামলার অভিযোগে এ রকমই বলেছেন ব্যবসায়ী আজিজুল আলম।
তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মিজান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় একটি চক্রের সঙ্গে। চক্রটির সদস্যরা তাকে জানান, তাদের কাছে অলৌকিক ক্ষমতার প্রাচীন ম্যাগনেট পিলার আছে। বিদেশে যেটির মূল্য হবে ১০০ বিলিয়ন ডলার। চটকদার কথা বলে প্রধান আসামি সোহেল ফকির পটিয়ে ফেলেন এই ব্যবসায়ীকে।
কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। একসময় প্রতারণার বিষয়টি ধরতে পারেন ব্যবসায়ী আজিজুল। তখন তিনি মামলা করেন কথিত সোহেল ফকিরসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে। সেই মামলার আসামি বড় বোনের হয়ে গত ১২ মে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন তারই ছোট বোন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে আদালতপাড়ায়। এ ঘটনায় সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছোট বোন লাইলী শাহনাজ খুশিকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। এদিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুল আলম এ সময় কারাগারে যাওয়া সেই আসামি প্রকৃত আসামি কি না যাচাই করতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামি বড় বোন শারমিন আক্তার একার পক্ষে ছোট বোন লাইলী শাহনাজ খুশি আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান গত ১২ মে মঙ্গলবার। তবে গত বৃহস্পতিবার এ আসামির রিমান্ড শুনানিকালে বাদীপক্ষে দাবি করা হয়, কাঠগড়ায় উপস্থিত নারী আসল আসামি নন। তিনি অন্য কেউ। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
এমন তথ্যে আদালত ওই নারীকে মুখ দেখাতে বলেন। তখন আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নারীর মিল পাওয়া যায়নি। সেদিন বিচারক এই নারী আসামি শারমিন আক্তার একা কি না, তা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন আদালতকে বলেন, “তিনি (খুশি) এ মামলায় আসামিই নন। তার রিমান্ড হতে পারে না। এই আসামি প্রকৃত আসামি নন। তার ভুল হয়েছে, আমরা ভুল স্বীকার করছি। এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ভিন্ন মামলা হতে পারে। তবে এ মামলায় রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই”।
এ সময় আইনজীবী আদালতের কাছে এ মামলা থেকে আসামির অব্যাহতি চান। একই সঙ্গে জামিন চান।
বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট রকিবুল ইসলাম, কাইয়ুম হোসেন নয়ন আসামির রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। তারা আদালতকে বলেন, “এ মামলায় আসামি রাসেলকে রিমান্ড নেওয়ার পর অনেক তথ্য বের হয়েছে। এরা সংঘবদ্ধ চক্র; বাদীর টাকা, স্বর্ণ ও জমি সবকিছু আত্মসাৎ করেছে। আত্মসমর্পণ করার সময় প্রতারণা করেছে, তার বিরুদ্ধে আলাদা মামলা তো হবেই। আদালত বাদী হয়ে মামলা করবে, সেটা আলাদা বিষয়। তবে এ মামলায় জড়িত আছেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। আত্মসমর্পণ করার সময় যে প্রতারণা করেছেন, সেটা বিচারব্যবস্থার সঙ্গে প্রতারণা। নিশ্চয়ই তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে”।
এ সময় আদালত বলেন, “যে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেছেন ওনার সনদ বাতিল হওয়া দরকার”।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আরও বলেন, “আসামিদের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে কেন সে আত্মসমর্পণ করবে? অবশ্যই তারা চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে”।
পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।