রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ ১৪:৩৮ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬ ১৪:৪৪ পিএম
গর্ভবতী নারী শান্তনা খাতুন হত্যা মামলায় মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন রংপুরের আদালত। ফাইল ছবি
রংপুরে গর্ভজাত সন্তানসহ এক নারীকে হত্যার দায়ে মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
রংপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির সোমবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুদ মিয়া রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মোনাইল এলাকার সাহেব মিয়ার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় শান্তনা খাতুনের সঙ্গে পরিচয় হয় মাসুদ মিয়ার। প্রথমদিকে শান্তনাকে ‘শালী’ এবং মাসুদকে ‘দুলাভাই’ বলে সম্বোধন করা হলেও পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
একপর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে শান্তনা বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুদ একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলেও মামলার বিবরণে জানা যায়।
বিবরণীতে আরও বলা হয়, শান্তনা গর্ভবতী হয়ে পড়লে আবারও বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু তাকে কিছু না জানিয়ে মাসুদ তার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আশুলিয়া ছেড়ে পীরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
২০২৩ সালের ১২ জুলাই শান্তনা নিজেকে মাসুদের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পীরগঞ্জের মোনাইল গ্রামে হাজির হন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে মাসুদের খালা ছাপিয়া বেগম স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈঠকে শান্তনা বিয়ের দাবি জানান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার হুমকি দেন। তখন মাসুদ তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। তবে তিনি শান্তনাকে পীরগঞ্জে রেখে ঢাকায় চলে যাওয়ার কথা বলেন।
পরদিন ১৩ জুলাই ফোন করে আবারও মামলার ভয় দেখালে মাসুদ ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে তাকে কৌশলে আখক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে শান্তনাকে হত্যা করেন এবং তারপেটে লাথি মারায় মৃত সন্তানের প্রসব হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য ও আলামত বিশ্লেষণ শেষে আদালত এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস একটি হত্যাকাণ্ড। আদালতের রায়ে নিহত শান্তনার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী সুলতান আহম্মেদ শাহীন।