প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ২১:৪৩ পিএম
অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আফজাল নাসেরকে আদালতে তোলা হচ্ছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকার কোতোয়ালি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আফজাল নাসেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন বৃহস্পতিবার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন তিনদিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কেএম আবদুল হক মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এর আগে গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। পরবর্তীতে মকবুল হত্যা মামলায় তাকে ৫ এপ্রিল ৩ দিন, ৮ এপ্রিল ৩ দিন, ১২ এপ্রিল ২ দিন এবং ১৪ এপ্রিল ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এরপর ১৭ এপ্রিল আবারও দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ৩ দিন ও ২০ এপ্রিল ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মাহমুদুল হত্যা মামলায় গত ২৩ এপ্রিল ৪ দিন, ২৭ এপ্রিল ২ দিন , ২৯ এপ্রিল ৩ দিন, ২ মে ৩ দিন এরপর জবি শিক্ষার্থী অনিক কুমার হত্যাচেষ্টা মামলায় ৫ ও ৮ মে ৩ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। চার মামলায় ১৪ দফায় মোট ৪১ দিনের রিমান্ডে ছিলেন আফজাল নাছের।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিত গুলি চালায়। এতে আহত হন অনিক। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর ২৪ এর ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন অনিক।
মামলার এজাহারে ১নং আসামি শেখ হাসিনা ও ২নং আসামি ওবায়দুল কাদেরের সরাসরি উসকানিতে এবং ৩নং আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ১৭ নং আসামি আফজাল নাসের পূর্বপরিকল্পিত নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে জবির অনিক কুমার দাস নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হন, যার শরীরে এখনো চারটি স্প্লিন্টার রয়েছে। ওই ঘটনায় অনিক কুমার দাস কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।