প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম
চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ফাইল ছবি
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ২৩ জুনের মধ্যে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দাখিলের এই নতুন দিন ধার্য করেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রেজাউল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ওই সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই পরিবার দাবি করে যে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগটি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা রিভিশন মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সালমানের স্ত্রী সামীরা হককে। অন্য আসামিরা হলেন— চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সালমানের মা নীলা চৌধুরী ও বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ছেলের বাসায় গিয়ে জানতে পারেন তিনি ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজারের ফোন পেয়ে তারা পুনরায় ফিরে দেখেন সালমান নিথর পড়ে আছেন। পরিবারের দাবি, সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে চিহ্ন ছিল।
সালমানের বাবার মৃত্যুর পর বর্তমানে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদীপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় (পরিকল্পিত হত্যা ও সহায়তা) অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে আদালত।