দুদকের মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম
সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ফাইল ছবি
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার বিদেশ ভ্রমণে কোন বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন নাকচ করে তাকে নিয়মিত সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এদিন মামলার নির্ধারিত হাজিরায় আনিস আলমগীর সশরীরে উপস্থিত হন। তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি তিনটি আবেদন দাখিল করেন—স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ এবং যেকোন সময় বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি। শুনানি শেষে আদালত ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনটি নামঞ্জুর করেন এবং বাকি দুটি আবেদন মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স নামের একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় আনিস আলমগীর ছাড়াও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজকে আসামি করা হয়েছিল।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ জানুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হয় এবং ২৮ জানুয়ারি তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় এবং ১১ মার্চ দুদকের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন আনিস আলমগীর।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের ঘোষিত আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদের উৎস পাওয়া যায়নি, যা তার মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। কমিশন এই সম্পদকে ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।