শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ
বাসস
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ১৭:৩০ পিএম
আপডেট : ০৭ মে ২০২৬ ১৮:৩৬ পিএম
সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আগামী ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই তিনজনকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত জানান। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি বলেন, শাপলা চত্ত্বরের হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পনা মাফিক ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজ্জামেল বাবু ও ফারজানা রুপা। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে গত মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর এই মামলার বিষয়ে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অনেকের হয়নি। এছাড়া পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জে ২০ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ২০ জনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। একই দিন চট্টগ্রামে পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া কুমিল্লায় একজন নিহত হন।
তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে আর তাদের সবারই পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ মামলাটির তদন্ত কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে এই মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এই মামলার ধার্য তারিখ আগামী ৭ জুনের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে বলে আশা করছেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের যেসব সদস্য হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও আমরা নিয়েছি। সব মিলিয়ে আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পেয়েছি।
চব্বিশের জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এই মামলার আসামি হয়েছেন।