ফ্ল্যাট জালিয়াতির মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ১৫:১২ পিএম
টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঢাকার গুলশান-২ ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড থেকে অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুই জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৮ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বুধবার শুনানি শেষে এ নতুন তারিখ ধার্য করেন।
দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এতথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজকে মামলাটির শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে বিচারক অন্যান্য মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৮ জুন নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল এ মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির হতে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) গেজেট প্রকাশের জন্য ছিল। গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম তথা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ১৬ এপ্রিল ধার্য করেন। একইসঙ্গে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত- ৫ এ বদলির আদেশ দেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত টিউলিপ ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর পাশাপাশি দুদকের আবেদন নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন একই আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনও টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করেন। মামলার পর গত বছরের জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান মামলার তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক নো অর্ডার আদেশ পায়।
পরে তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
উল্লেখ্য, অবৈধ সুবিধা নিয়ে গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে কমিশনের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম মামলা করেন।