জবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১৭:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৬ ১৯:৫৪ পিএম
অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আফজাল নাছের। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। এ নিয়ে ১২ দফায় ৩৮ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে তাকে।
এই দিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়, কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কেএম আবদুল হক সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয় শুনানি হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তারের দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শওকত হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরবর্তীতে রিমান্ড শুনানিতে নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “মামলার বাদী জবি শিক্ষার্থী অনুক কুমার দাস জুলাইয়ের ১৬ তারিখ সিএমেম কোর্ট সংলগ্ন রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন। যেটি ছিল স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য আফজাল নাছেরদের প্রচেষ্টা। এজন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ মামলায় জড়িত অন্যান্য আসামি এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যাবে”।
এর আগে গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পরবর্তীতে মকবুল হত্যা মামলায় তাকে ৫ এপ্রিল ৩ দিন, ৮ এপ্রিল ৩ দিন, ১২ এপ্রিল ২ দিন এবং ১৪ এপ্রিল ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর পর ১৭ এপ্রিল আবারও দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ৩ দিন ও ২০ এপ্রিল ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মাহমুদুল হত্যা মামলায় গত ২৩ এপ্রিল ৪ দিন, ২৭ এপ্রিল ২ দিন , ২৯ এপ্রিল ৩ দিন, ২ মে ৩ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। তিনটি মামলায় ১১ দফায় মোট ৩৫ দিনের রিমান্ডে ছিলেন আফজাল নাছের।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিত গুলি চালায়। এতে আহত হন অনিক। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর ২৪ এর ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন অনিক।
মামলার এজাহারে ১ নং আসামি শেখ হাসিনা ও ২ নং আসামি ওবায়দুল কাদেরের সরাসরি উস্কানিতে এবং ৩ নং আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ১৭ নং আসামি আফজাল নাছের পূর্বপরিকল্পিত নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে জবির অনিক কুমার দাস নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হন, যার শরীরে এখনো চারটি স্প্লিন্টার রয়েছে। ওই ঘটনায় অনিক কুমার দাস কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।