প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৪৩ পিএম
ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এতে ৩৪.০২ শতাংশ আইনজীবীর ভোট পড়েছে।
ভোট গ্রহন শেষে বৃহস্পতিবার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনের প্রথম দিনে ভোট দেন ২ হাজার ৭৫৯ জন, এবং দ্বিতীয় দিনে ভোট দেন ৪ হাজার ৩১০ জন। ২০ হাজার ৭৮১ ভোটারের মধ্যে দুই দিনে মোট ভোট প্রয়োগ করে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী। সেই হিসেবে প্রায় ৩৪.০২ শতাংশ আইনজীবীর ভোট পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি রাখা হয় এবং এরপর বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে।
ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন জানান, প্রায় দুই বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। আইনজীবীরা সাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। খুব সুন্দর ও সুষ্ঠু একটা ভোট আমরা নির্বাচন কমিশন দিতে পেরেছি। সকল প্রার্থীরা ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে বলে মতামত দিয়েছেন তিনি।
আগামীকাল জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে বলে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটার স্লিপগুলো ঠিকভাবে সিরিয়াল করে গণনা শুরু হবে, সেক্ষেত্রে শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
তবে একাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ দেখালেও ‘অনুমতি’ না মেলায় অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট ও বিজয়ের প্রত্যাশা করছে উভয় প্যানেল।
বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ.এস.এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক)।
সদস্য পদে এই প্যানেল থেকে লড়ছেন— এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।
অপর দিকে জামায়াত- এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস. এম. কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন। এই প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (আজাদ), কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল আক্তার (বাবু), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ।
সদস্য পদে এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন— বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন।
অপরদিকে, স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ পদে রফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান আবুল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ওলিদা বেগমসহ ৮ জন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাধারণ প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রায় ১৪ মাস পর নির্বাচন হওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আদালত প্রাঙ্গণে আগে থেকেই জমে উঠেছিল প্রচারণা।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি কোনো প্যানেল অংশ নিচ্ছে না, যা ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।