প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২২ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৬ ১৬:৪৪ পিএম
আদালতে নেওয়ার সময় মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আবারো তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট জামসেদ আল্ম হ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
৫ দফায় ২১ দিনের রিমান্ড শেষে এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়, এসময় তিনি চুল দাড়ি কাটতে আদালতে আবেদন জানান।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো.আমজাদ হোসেন তালুকদার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে বলেন, বিগত ১৭ বছর শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানানোর জন্য তার এবং আরও কিছু সেনাকর্মকর্তার অবদান ছিলো তার মধ্যে অন্যতম মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তাকেও আজ তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। শেখ হাসিনা হুট করে ফ্যাসিস্ট হয়ে যায় নাই, তাদের মতো কিছু সেনাকর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি ফ্যাসিস্ট এ রূপান্তরিত হয়েছে, শুধু তাই নয় ৫ ই আগস্ট এর পর সরকার বিরোধী বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে তিনি সহযোগিতা করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।
তিনি জানান, মাঞ্জিল হায়দার শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ, তার হার্টের সমস্যা আছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে টানা ২১ দিন রিমান্ডে থাকায় এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারের মুখ দেখে নাই।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সেনাবাহিনী সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিল। এখন পর্যন্ত কেউ সেনাকর্মকর্তাদের জুলাই বিরুধী বলেন নাই, তাহলে কেন বার বার তাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
তার চুল দাড়ি কাটার আবেদনের কথা বললে বিচারক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করে বলেন, চুল দাড়ি কাটার অনুমতি এখন আদালত দিবে নাকি? এটাতো সাধারণ বিষয়, আদালত কি তাহলে ভাত, পানি খাওয়ার অনুমতিও দিবে?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপরে যেভাবে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে, এরকম যেন এখন না হয়। তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন বিচারক।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর হত্যা মামলায় ১২ দিনের রিমান্ডে ছিলেন মাঞ্জিল হায়দার। গত মঙ্গলবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে পাঁচ দিন রিমান্ড দেয় আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ৩টার দিকে রমনা থানাধীন রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে মিছিল করে।
সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রকার স্লোগান দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে অপপ্রচার করেছিল। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পলায়নের চেষ্টা করে। কয়েকজনকে সেখান থেকে আটক করা হয়। ওই ঘটনায় ওই দিনই রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।